সুপার কম্পিউটার বানাবে এনভিডিয়া? জার্মানিতে নেওয়া হলো বড় উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া (Nvidia) এবং তথ্যপ্রযুক্তি জায়ান্ট হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজ (HPE)। মঙ্গলবার জার্মানির হামবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিত এক সুপারকম্পিউটিং সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই দুটি কোম্পানি জার্মানির ‘লাইবনিজ সুপারকম্পিউটিং সেন্টার’-এর সঙ্গে মিলে একটি অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটার তৈরি করবে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লু লায়ন’ (Blue Lion) সুপারকম্পিউটার, যা ২০২৭ সালের প্রথম দিকে বিজ্ঞানীদের ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ হবে।
‘ব্লু লায়ন’ সুপারকম্পিউটারে এনভিডিয়ার পরবর্তী প্রজন্মের ‘ভেরা রুবিন’ চিপ ব্যবহার করা হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চিপগুলি বর্তমানের চেয়েও দ্রুত এবং দক্ষ গণনার ক্ষমতা প্রদান করবে, যা বায়োটেকনোলজি থেকে শুরু করে জলবায়ু গবেষণা পর্যন্ত বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
এর আগে এনভিডিয়া ঘোষণা করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাব’ও আগামী বছর তাদের ‘ভেরা রুবিন’ চিপ ব্যবহার করে সুপারকম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও, এনভিডিয়া তাদের চিপ ব্যবহার করে জার্মান জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফরসচুংজেন্ট্রাম জুলিচ’-এর জন্য ‘জুপিটার’ নামের আরেকটি সুপারকম্পিউটার তৈরি করবে, যা বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুতগতির সিস্টেম।
এই চুক্তিগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, ইউরোপীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সুপারকম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদেরকে এগিয়ে রাখতে চাইছে। এর লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মডেলিং, নতুন ঔষধ আবিষ্কার এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানে দ্রুততর ও সূক্ষ্ম গণনা নিশ্চিত করা।
এনভিডিয়া, এআই দুনিয়ায় শক্তিশালী হওয়ার অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞানীদের বোঝানোর চেষ্টা করে আসছিল যে তাদের চিপ ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের মডেল তৈরির মতো বিভিন্ন জটিল হিসাব দ্রুত করা সম্ভব। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক সূক্ষ্ম গণনার প্রয়োজন হত, যা করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেত।
রয়টার্স লিখেছে, এখন এনভিডিয়া বিজ্ঞানীদের এআই ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছে। বিভিন্ন এআই সিস্টেম অল্প কিছু হিসাবের ফল ব্যবহার করে এমন অনুমান করতে পারে, যা পুরোপুরি গণনা করা ফলের মতো নির্ভুল না হলেও, অনেক কম সময়ে কার্যকর ফলাফল দিতে পারে।
মঙ্গলবার এনভিডিয়া তাদের ‘ক্লাইমেট ইন এ বটল’ (Climate in a Bottle) নামের একটি এআই মডেল উন্মোচন করেছে। কোম্পানিটির ডেটা সেন্টারের প্রোডাক্ট মার্কেটিং-এর প্রধান ডিওন হ্যারিস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিজ্ঞানীরা এই মডেলটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার মতো কিছু প্রাথমিক তথ্য দিলে ১০ থেকে ৩০ বছর ভবিষ্যতের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করতে পারবে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতি কিলোমিটার এলাকার আবহাওয়া কেমন হতে পারে তা জানা যাবে।
হ্যারিস আরও বলেন, “গবেষকরা ক্লাসিক পদার্থবিজ্ঞান ও এআইয়ের মিলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে অ-স্থির বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের সমস্যা সমাধান করবেন। বিজ্ঞানীদের পক্ষে আগে যা সম্ভব ছিল তার চেয়েও পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করতে তাদের সাহায্য করবে এ কৌশলটি।”
‘ব্লু লায়ন’ সুপারকম্পিউটার এবং এনভিডিয়ার এআই ভিত্তিক সমাধানগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা মানবজাতির বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।