বিশেষ: হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা আছে কি না বোঝার ৬ উপায়, জেনেনিন কী কী?

ছুটিতে ঘুরতে গিয়ে কিংবা স্পা, শপিংমলের ট্রায়াল রুমে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী হওয়ার আশঙ্কা এখন নতুন উদ্বেগ। অসাধু চক্র গোপন ক্যামেরা বসিয়ে নারীসহ অনেককেই হয়রানি করছে। আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে, কীভাবে নিজেই লুকিয়ে থাকা গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করবেন, তা জেনে নিন। একটু বুদ্ধি খাটালেই এই প্রযুক্তিগত ফাঁদ এড়ানো সম্ভব।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অসাধু চক্রের হাতে চলে এসেছে সহজে লুকানো যায় এমন অত্যাধুনিক গোপন ক্যামেরা। হোটেল কক্ষ, পাবলিক টয়লেট, ড্রেসিং রুম বা স্পা সেন্টারে এই ক্যামেরাগুলো বসিয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানি করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা এখন প্রায়শই খবরের শিরোনামে আসছে। তাই, এই বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
৬টি সহজ কৌশল, যা আপনাকে গোপন ক্যামেরা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে:
১. ফোনের কথা বলার সময় অস্বাভাবিক শব্দ:
আপনার ফোনে কথা বলার সময় যদি অস্বাভাবিক ‘বজবজে’, ‘ক্র্যাক’ বা ‘বিপ’ ধরনের শব্দ শুনতে পান, তাহলে সতর্ক হোন। ওয়্যারলেস ক্যামেরা রেডিও তরঙ্গ নির্গত করে, যা ফোন কলে এমন শব্দ সৃষ্টি করতে পারে। ঘরের মধ্যে ধীরে ধীরে হাঁটুন এবং ফোনে কথা বলুন। যদি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় এই শব্দ তীব্র হয়, তাহলে সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো গোপন ডিভাইস।
২. আয়নার ‘ফিঙ্গার টেস্ট’: দ্বি-মুখী আয়না শনাক্ত করুন
ঘরের আয়নাটি দ্বি-মুখী কিনা তা পরীক্ষা করুন। আয়নার কাঁচের ওপর আপনার আঙুল রাখুন। যদি আপনার আঙুলের প্রতিচ্ছবিকে কাঁচের ওপর মনে হয় এবং আঙুল ও প্রতিচ্ছবির মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে, তবে এটি দ্বি-মুখী আয়না হতে পারে। অর্থাৎ, আয়নার পেছন থেকে নজরদারি করা যাচ্ছে। প্রয়োজনে আয়নার প্রান্ত বা পেছনে টর্চ ফেলে খুঁটিয়ে দেখুন।
৩. মোবাইল টর্চ জ্বালিয়ে ক্যামেরা লেন্স খুঁজুন:
ঘরের সমস্ত আলো নিভিয়ে দিন। এবার আপনার ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে ঘরের প্রতিটি কোণ স্ক্যান করুন। বিশেষ করে অ্যালার্ম ঘড়ি, শো-পিস, ফ্যান, ভেন্ট, চার্জার সকেট বা যেকোনো ছোট গর্তের দিকে মনোযোগ দিন। কোনো বস্তু থেকে যদি হালকা নীল বা বেগুনি রঙের প্রতিফলন দেখতে পান, সেটি ক্যামেরা লেন্স হতে পারে।
৪. ওয়াই-ফাই স্ক্যান ব্যবহার করুন:
হোটেলের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে ‘Fing’ বা ‘Network Scanner’ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করুন। এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে দেখুন, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে আর কী কী ডিভাইস সংযুক্ত আছে। যদি কোনো ‘IP Camera’ বা ‘Webcam’ এর মতো ডিভাইস খুঁজে পান, তাহলে সতর্ক হোন। পরবর্তীতে ওয়াই-ফাই বন্ধ করে দেখুন সেই ডিভাইসটি তালিকা থেকে উধাও হয় কিনা।
৫. স্মার্ট অ্যাপস ব্যবহার করুন:
আপনার স্মার্টফোনে ‘Hidden Camera Detector’ (আইফোনের জন্য) বা ‘Glint Finder’ (অ্যান্ড্রয়েডের জন্য) এর মতো বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করে ঘর স্ক্যান করুন। এই অ্যাপগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা ম্যাগনেটিক সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে। যদি কোনো সন্দেহজনক সংকেত ধরা পড়ে, তবে সেই স্থানটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
৬. ইন্ফ্রারেড ক্যামেরার আলো পর্যবেক্ষণ:
বেশিরভাগ গোপন ক্যামেরায় রাতের বেলায় ভিডিও ধারণের জন্য ইন্ফ্রারেড আলো থাকে। অন্ধকারে এই আলো ছোট লাল বা সবুজ বিন্দুর মতো দেখায়। ঘরের সব আলো নিভিয়ে, জানালা ঢেকে, আপনার ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রতিটি কোণ স্ক্যান করুন। ইন্ফ্রারেড আলো ক্যামেরায় দৃশ্যমান হতে পারে।
এই সহজ কৌশলগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ব্যক্তিগত পরিসরকে অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। আপনার সচেতনতাই আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।