AI-নির্ভর ক্লিনিক চালু হল সৌদি আরবে, যেখানে চিকিৎসা করবে এআই সিস্টেম।

আপনি কি এমন এক ক্লিনিকে ঢোকার কথা কল্পনা করতে পারেন, যেখানে ডাক্তার আসলে কোনো মানুষ নন, বরং এক অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? সে আপনার রোগের উপসর্গ শুনবে, চিকিৎসার পরামর্শ দেবে, আর পর্দার আড়ালে একজন আসল ডাক্তার সবকিছু যাচাই করে দেখবে। ঠিক এমনটাই এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে সৌদি আরবে। বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ এআই-চালিত ক্লিনিকটি তার কার্যক্রম শুরু করেছে আল-আহসা শহরে, যেখানে চিকিৎসার মূল কাজ করবে ‘ড. হুয়া’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম।
প্রযুক্তি ও মানব দক্ষতার যুগলবন্দী
এ বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবের পূর্ব প্রদেশের আল-আহসা শহরে পরীক্ষামূলকভাবে এই অভিনব ক্লিনিকটি চালু হয়েছে। চীনের সাংহাইভিত্তিক টেনসেন্ট-সমর্থিত এআই-নির্ভর স্টার্টআপ ‘সিনি এআই’ এবং সৌদি আরবের ‘আলমুসা হেলথ গ্রুপ’-এর যৌথ সহযোগিতায় এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি ও মানব দক্ষতার এক অসাধারণ সমন্বয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য এবং বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ করে তোলা।
কীভাবে কাজ করবে ‘ড. হুয়া’?
এই ক্লিনিকে রয়েছে ‘ড. হুয়া’ নামের একটি এআই সিস্টেম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ নির্ণয় করে এবং চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীরা একটি ট্যাবলেটে নিজেদের উপসর্গ লিখবেন এবং ‘ড. হুয়া’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এরপর এআই সিস্টেমটি নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করবে এবং রোগীর মেডিকেল ডেটা ও ছবি যেমন হার্টের কার্ডিওগ্রাম বা এক্স-রে বিশ্লেষণ করবে। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর সিস্টেমটি চিকিৎসার পরামর্শ দেবে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে: এআইয়ের দেওয়া চিকিৎসার পরিকল্পনা একজন মানব ডাক্তার দ্বারা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদন করা হবে। সাধারণ রুটিন চেকআপে মানব ডাক্তাররা সরাসরি রোগী দেখবেন না, কিন্তু জরুরি অবস্থা বা এআইয়ের পক্ষে সামলানো সম্ভব নয় এমন পরিস্থিতিতে তারা কাছেই উপস্থিত থাকবেন।
স্বাস্থ্যগত সমস্যা নির্ণয়ে এআই কতটা কার্যকর?
‘সিনি এআই’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ক্লিনিক চালুর আগের পরীক্ষামূলক ধাপে এই প্রযুক্তির ভুলের হার ছিল ০.৩ শতাংশেরও কম, যা এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আশাবাদী করে তুলছে।
স্টার্টআপটির সিইও ঝাং শাওডিয়ান বলেছেন, “আগে এআই কেবল ডাক্তারদের সহায়তা করত। তবে এখন আমরা এমন ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সরাসরি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেবে এআই।”
এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন রোগী এই ক্লিনিকে বিনামূল্যে সেবা নিয়েছেন। যেহেতু প্রকল্পটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তাই একজন মানব ডাক্তারও ক্লিনিকে উপস্থিত থাকছেন। এই প্রোগ্রাম থেকে এআই যে রোগ নির্ণয়ের তথ্য দিচ্ছে, তা সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে, যেন ভবিষ্যতে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যায়। ঝাং আশাবাদী যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পেয়ে যাবেন তারা।
সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই ‘হেলথবেঞ্চ’ নামে একটি বেঞ্চমার্ক চালু করেছে, যেখানে এআই কতটা সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাজ করতে পারে তা পরীক্ষা করছে কোম্পানিটি।
বর্তমানে কী কী রোগের চিকিৎসা সম্ভব?
এই ক্লিনিকটি বর্তমানে শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ। প্রায় ৩০টি রোগ শনাক্ত করতে পারে এই ক্লিনিক, যার মধ্যে হাঁপানি এবং গলার সংক্রমণের মতো সাধারণ রোগও রয়েছে। কোম্পানিটি বলেছে, শিগগিরই এই ক্লিনিকের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৫০টি রোগ অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তারা, যার মধ্যে পেটের রোগ এবং চর্মরোগও যুক্ত থাকবে।
এই পদক্ষেপটি চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা পদ্ধতি কেমন হতে পারে তার একটি আভাস দিচ্ছে।