“AI ব্যবহার করেই হবে কাজ”-৮০০০ কর্মীকে ‘ছাটাই’-এর পরিকল্পনা IBM-এর

বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর এখন আর নতুন কিছু নয়। করোনা অতিমারী পরবর্তী সময়ে লাভজনকতা বাড়াতে অনেক সংস্থাই এই পথে হাঁটছে। তবে সম্প্রতি বাজার বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতা সংস্থা ম্যাকিনসে (McKinsey) প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী (৫,০০০ জন) ছাঁটাই করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরই পেটিএমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিজয় শেখর শর্মা এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য: “দেয়ার ইজ় এ নিউ কনসালট্যান্ট ইন টাউন। দ্য আনসার ইজ় চ্যাটজিপিটি।”
এআইয়ের প্রভাব: মানবকর্মীর গুরুত্ব কি কমছে?
বিজয় শেখর শর্মার এই পোস্টটি, যতই ব্যাঙ্গাত্মক ঢঙে করা হোক না কেন, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, অন্যান্য একাধিক সেক্টরের মতো পেশাদার কনসালটেন্সি জগতেও চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-এর মতো জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) টুলগুলির ব্যবহার দ্রুত হারে বাড়ছে। এর ফলে বিভিন্ন বিভাগে ক্রমশ মানবকর্মীর গুরুত্ব কমছে, যা বাকি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যাটজিপিটি-র অন্যতম বৃহত্তম এন্টারপ্রাইজ ইউজার হলো অপর কনসালটেন্সি ফার্ম পিডব্লিউসি (PwC)। তারা সম্প্রতি জানিয়েছে, এআই টুলগুলি সংস্থার সার্বিক কার্যকারিতা (efficiency) বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক পদের অবলুপ্তিতে সাহায্য করছে। এর ফলস্বরূপ, পিডব্লিউসি ১,৫০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।
আইবিএম-এর পথে ম্যাকিনসে?
একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সংস্থা আইবিএম (IBM)। চলতি মাসের গোড়ার দিকে তারা জানিয়েছিল, মানবসম্পদ উন্নয়ন (HR) বিভাগে ২০০টি পদে মানবকর্মী সরিয়ে ‘এআই বট’ বসানো হবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আইবিএমের সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণ জানিয়েছেন, এআই এবং অটোমেশন যেভাবে সংস্থার কিছু এন্টারপ্রাইজ প্রক্রিয়াকে সুসংহত (streamline) করতে এবং টিমগুলিকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করছে, তাতে কর্তৃপক্ষ উল্লসিত।
আইবিএম আগামী দিনে প্রায় ৮,০০০ কর্মীকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব এআই এজেন্টদের হাতে তুলে দিতে চলেছে বলে জানা গেছে। অরবিন্দ সরাসরি নাম না করলেও, একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যমে দাবি করছে, সংস্থার এইচআর ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের বড় অংশে এই কোপ পড়তে চলেছে।
তবে অরবিন্দ একই সঙ্গে এও দাবি করেছেন যে, যাঁদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং এবং সেলসের মতো অন্য একাধিক ডিপার্টমেন্টে কাজে লাগানো হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে সংস্থার কর্মী সংখ্যা কমছে না। উল্লেখ্য, গত বছর দুয়েকের গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন-এর মতো একাধিক বহুজাতিক সংস্থাও বড় অংশের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে।
এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রভাব কর্পোরেট জগতে ক্রমশ বাড়ছে, এবং এটি ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে আরও বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই পরিবর্তনগুলো কি কর্মসংস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে, নাকি নতুন ধরনের সুযোগ তৈরি করবে? আপনার কী মনে হয়?