টেলিগ্রামে আসছে ইলোন মাস্কের AI চ্যাটবট ‘Grok’! হলো ২৫৬৮ কোটি টাকার ডিল

প্রযুক্তি বিশ্বের দুই আলোচিত ব্যক্তিত্ব, ইলন মাস্ক এবং পাভেল দুরভ, তাদের প্রতিষ্ঠান xAI এবং টেলিগ্রামের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে xAI-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ‘গ্রক’ (Grok) এখন থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপে ব্যবহার করা যাবে, যা বিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে এআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।
টেলিগ্রামের প্রধান পাভেল দুরভ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চুক্তির ঘোষণা করে বলেছেন যে, এর মাধ্যমে টেলিগ্রামের “১০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী” xAI-এর তৈরি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘গ্রক’ ব্যবহার করতে পারবে এবং এটিকে টেলিগ্রামের অ্যাপে যোগ করা হবে। দুরভ আরও বলেছেন, এই চুক্তির মেয়াদ এক বছর। এতে xAI থেকে ৩০ কোটি ডলার নগদ অর্থ ও শেয়ার পাবে টেলিগ্রাম। পাশাপাশি, টেলিগ্রামের মাধ্যমে xAI-এর সাবস্ক্রিপশন বিক্রি হলে তার ৫০ শতাংশও পাবে অ্যাপটি। দুরভ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “একসঙ্গে, আমরা জিতবো!”
তবে, এই ঘোষণার পরপরই ইলন মাস্ক একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে জানান, “কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।” এর প্রেক্ষিতে পাভেল দুরভ পরে স্পষ্ট করেন যে, চুক্তিটি “নীতিগতভাবে” সম্মত হয়েছে এবং চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে।। এই চুক্তির মূল্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫৬৮ কোটি টাকা।
এআই পরিষেবাতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা:
এই চুক্তি এমন এক সময়ে এলো যখন মেসেজিং অ্যাপগুলোতে এআই পরিষেবা যুক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। এর আগে, মেটা তাদের মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে একটি এআই পরিষেবা যোগ করেছিল। যদিও অনেক ব্যবহারকারী এতে অসন্তুষ্ট হওয়ায় মেটাকে এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়েছিল।
মিডিয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া রিসার্চ’-এর বিশ্লেষক হান্না কাহলার্ট এই পদক্ষেপটিকে “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এআই একে অপরকে নিজেদের মধ্যে মিশিয়ে নিতে চাইছে” – তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ, উভয় দিক থেকেই একে অপরকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তবে কাহলার্ট সতর্ক করে বলেছেন যে, গ্রাহকরা আসলে যা চান, এটি অবশ্যই তা নাও হতে পারে। সব সময় কোম্পানির পরিকল্পনা ও গ্রাহকের চাহিদা একরকম না-ও হতে পারে। তিনি বলেন, “এখনও ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ও তাদের খবরাখবর দেখার জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। ডাইরেক্ট বা সরাসরি মেসেজিংয়ে এআই যোগ হলে এর মূল কাজ বদলে যেতে পারে। ফলে সামাজিক মাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার ও এর সুবিধা থেকেও মনোযোগ সরে যেতে পারে তাদের।”
দুই বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের জোট:
এই জোট প্রযুক্তি দুনিয়ার দুইজন সবচেয়ে আলোচিত ও কখনও কখনও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে একসঙ্গে এনেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে গত বছরের আগস্টে ফ্রান্স পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুরভের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘শিশু পর্নোগ্রাফি, অবৈধ ওষুধ বিক্রি ও হ্যাকিং সফটওয়্যার সরবরাহের’ মতো অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ ছিল। যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন এবং চলতি বছরের মার্চে তাকে দুবাইতে নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সমালোচকরা এই প্ল্যাটফর্মটিকে “ডার্ক ওয়েব ইন ইয়োর পকেট” বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ তাদের মতে, এখানে অপরাধমূলক কাজ নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রযুক্তিগত আগ্রহের পরিসর বিশাল, যার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে ইমপ্ল্যান্ট তৈরির স্টার্টআপ ‘নিউরালিংক’ থেকে শুরু করে রকেট বানানোর কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ পর্যন্ত। তিনি টেসলা, স্পেসএক্স, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার) এবং xAI-এর প্রধান। এছাড়া, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত এআই কোম্পানি চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা ওপেনএআইয়ের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।
এই অংশীদারিত্ব প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এর ব্যবহারকারী এবং তাদের গোপনীয়তার উপর কী প্রভাব পড়ে, তা সময়ই বলে দেবে।