Apple: আশপাশের পরিবেশ বুঝতে পারবে এমন স্মার্ট চশমা বানাচ্ছে অ্যাপল?

স্মার্ট চশমার বাজারে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানি অ্যাপল। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যেই অ্যাপল এমন একটি স্মার্ট চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে যা কেবল সময় দেখাবে না, বরং আশপাশের জগতকে ‘বুঝতে’ পারবে। এটি মেটার জনপ্রিয় রে ব্যান স্মার্ট চশমার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, যা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (VR) চেয়ে অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে (AR) তাদের মূল আগ্রহের কথা বলে আসছে। তাদের ‘ভিশন প্রো’ নামে যে অগমেন্টেড রিয়েলিটি হেডসেটটি ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে, তা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও এর আকার এবং ওজন অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বাইরের জগতকে স্ক্রিনে দেখানোর জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করে, যা পুরোপুরি প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা দেয় না।
অন্যদিকে, নতুন স্মার্ট চশমাটি অ্যাপলের এই AR-ভিত্তিক কৌশলেরই একটি ভিন্ন দিক। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, এই চশমায় এমন অনেক সেন্সর থাকবে যা এটিকে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অ্যাপলের বর্তমান এয়ারপডের মতোই কাজ করবে, যেখানে মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা থাকবে, যা ব্যবহার করে ভার্চুয়াল সহকারী ‘সিরি’র সঙ্গে কথা বলা যাবে। অন্তত একটি ক্যামেরা এতে থাকবে, যা দিয়ে এটি আশপাশের দুনিয়া ‘দেখতে’ পারবে এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে আরও ভালোভাবে উত্তর দিতে সক্ষম হবে।
মেটার রে ব্যান স্মার্ট চশমা ইতিমধ্যেই বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কানে শোনা যায় এমন স্পিকার এবং মেটার এআই সহকারীর সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি সংযোগ রয়েছে। অ্যাপলের নতুন চশমা সরাসরি এই বাজারের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
প্রশ্ন উঠছে, অ্যাপল কি কেবল মেটার পথ অনুসরণ করছে, নাকি অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে এক নতুন মান স্থাপন করবে? অ্যাপলের এই স্মার্ট চশমা, মেটার অফারগুলির তুলনায় কতটা হালকা, আরামদায়ক এবং কার্যকরী হবে, তা দেখার বিষয়। মেটাও তাদের হেডসেট ও চশমাকে একীভূত করে একটি হালকা হেডসেট তৈরির কথা বলেছে, যা বাস্তব জগত দেখাবে এবং একই সঙ্গে ভার্চুয়াল তথ্য ও বিভিন্ন বস্তুকে এর ওপর ওভারলে করার সুযোগ দেবে।
গুঞ্জন রয়েছে যে, অ্যাপল এমন কিছু এয়ারপড তৈরির পরিকল্পনাও করছে, যেখানে ক্যামেরা থাকবে। যদিও এসব এখনও নিশ্চিত নয় এবং এই ধরনের পণ্য আসলে বাজারে আসবে কি না, বা ওই ক্যামেরা কী কাজে লাগানো হবে সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। তবে, এই গুজবগুলি নির্দেশ করে যে, অ্যাপল তাদের ইকোসিস্টেমের প্রতিটি অংশে এআই এবং ‘পরিবেশ বোঝার’ ক্ষমতাকে একীভূত করতে চাইছে।
অ্যাপলের এই নতুন পদক্ষেপ, তাদের ‘ভিশন প্রো’ হেডসেটের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে নাকি এটিকে ছাপিয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির ভবিষ্যৎ আরও দ্রুতগতিতে বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।