Air Cooler-কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন, জেনেনিন ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

গরমে এসি জীবনে স্বস্তি এনে দিলেও, যারা এসি ব্যবহার করতে চান না বা যাদের জন্য এটি ব্যয়বহুল, তারা কম খরচে এয়ার কুলার কিনতে পারেন। এয়ার কুলার গরমকালে খুবই কার্যকর একটি যন্ত্র, বিশেষ করে যেখানে এসি ব্যবহার করা সম্ভব নয় বা ইনস্টলেশন ব্যয়বহুল। তবে যারা নতুন এয়ার কুলার কিনছেন তাদের বেশ কিছু বিষয় আগে থেকেই জেনে নেওয়া দরকার। এতে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সাশ্রয়ী এবং ভালো মানের এয়ার কুলার কিনতে পারবেন। দেখে নিন এয়ার কুলার কেনার সময় কী কী বিষয়ে নজর রাখা জরুরি:

১. আকার (Size): কোন আকারের এয়ার কুলার কিনবেন তা নির্ভর করবে আপনার ঘরের আয়তনের উপর। মাঝারি বা ছোট মাপের ঘরের জন্য সেই অনুযায়ী পার্সোনাল বা টাওয়ার কুলার পছন্দ করুন। বড় মাপের ঘরের জন্য ডেসার্ট কুলার (Desert Cooler) পারফেক্ট। একটি সাধারণ হিসেব হলো, ঘরের মাপ যদি ১৫০ স্কয়ার ফিট থেকে ৩০০ স্কয়ার ফিটের মধ্যে হয় তাহলে পার্সোনাল কুলার কিনুন। আর ঘরের মাপ যদি ৩০০ স্কয়ার ফিটের থেকে বড় হয় তাহলে ডেসার্ট কুলার কিনলে বেশি আরাম পাবেন।

২. ওয়াটার ট্যাঙ্কের ক্ষমতা (Water Tank Capacity): এয়ার কুলারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ওয়াটার ট্যাঙ্ক। ট্যাঙ্কের ক্ষমতা যত বেশি হবে, তত কম ঘন ঘন জল ভরতে হবে। কুলারের মাপ যদি বড় হয়, তাহলে কুলারের মধ্যে ওয়াটার ট্যাঙ্কের ক্ষমতাও বেশি হবে। ছোট ঘরের জন্য ১৫ লিটার আর মাঝারি মাপের ঘরের জন্য ২৫ লিটার বা তার বেশি ওয়াটার ট্যাঙ্কের এয়ার কুলার পছন্দ করা ভালো।

৩. জলবায়ু অনুযায়ী কুলার (Cooler According to Climate): আপনার এলাকার জলবায়ু কেমন, তা দেখে কুলার কিনুন। পরিবেশ যদি রুক্ষ বা শুষ্ক হয় তাহলে ডেজার্ট কুলার কেনাই ভালো, কারণ এটি বেশি পরিমাণে জল শোষণ করে ঠান্ডা বাতাস বের করে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেশি অর্থাৎ পরিবেশ যদি আর্দ্র হয়, সেক্ষেত্রে পার্সোনাল বা টাওয়ার কুলার অনেক বেশি কার্যকরী কারণ এটি কম আর্দ্রতা ছড়ায়।

৪. কুলারের শব্দ (Cooler Noise): কিছু কিছু কুলারে মোটর বা ফ্যানের কারণে বেশ আওয়াজ বা ঘরঘর শব্দ বের হয়, যা বিরক্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময়। তাই কুলার কেনার সময় অবশ্যেই কুলার চালিয়ে দেখে নিন কেমন আওয়াজ হচ্ছে। কুলারের ফ্যানের স্পিড বেশি হলে ঘরঘর করে কোনো অপ্রীতিকর শব্দ হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন।

৫. অটো ফিল ফাংশন (Auto Fill Function): কুলারে জল রিফিল করা একটি নিয়মিত কাজ হতে পারে, যা অনেক সময় জটিল বা সময়সাপেক্ষ মনে হয়। এই কারণে কুলারে অটো ফিল ফাংশন রয়েছে কি না দেখে নেওয়া খুবই দরকার। এই ফিচার থাকলে কুলারের ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার চিন্তা থাকে না, যা মোটরের ক্ষতি হওয়া থেকে রোধ করে। অটো ফিল এবং সহজ পরিষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে ভালো কুলিং পাওয়া যায়।

৬. কুলিং প্যাডের গুণমান (Quality of Cooling Pads): কুলিং প্যাডগুলো কুলারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এরাই জল শোষণ করে বাতাস ঠান্ডা করে। কুলারের জন্য বিভিন্ন ধরনের কুলিং প্যাড পাওয়া যায়। যেমন – উল কাঠ (Wood wool), অ্যাস্পেন প্যাডস (Aspen pads), হানিকম্ব প্যাডস (Honeycomb pads)। হানিকম্ব প্যাডগুলো তাদের গঠনের কারণে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঠান্ডা থাকে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কম সময় খরচ হয়। তাই অন্য দুটির তুলনায় এই কুলিং প্যাড অনেক ভালো মানের হয়।

৭. অতিরিক্ত আইস চেম্বার (Additional Ice Chamber): দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছু কুলার নির্মাতারা তাদের মডেলগুলোতে একটি আলাদা আইস চেম্বার যোগ করে। ট্যাঙ্কের জল দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য আপনি এই চেম্বারে বরফের কিউব যোগ করতে পারেন, যা গরমের দিনে তাৎক্ষণিক ঠান্ডা বাতাস পেতে সাহায্য করে।

৮. এয়ার কুলার কোথায় রাখবেন (Where to Place Air Cooler): কুলারের ধরন অনুযায়ী সঠিক জায়গায় বসানো তার পারফরম্যান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাপ অনুযায়ী যদি ডেসার্ট কুলার পছন্দ করেন, তাহলে অবশ্যই ঘরের বাইরে বা জানালায় রাখতে হবে, যাতে এটি বাইরের বাতাস টেনে ঠান্ডা করে ঘরে পাঠাতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পার্সোনাল বা টাওয়ার কুলার ঘরের ভেতর যে কোনো জায়গায় রাখা সম্ভব।

৯. বিদ্যুতের খরচ (Electricity Consumption): এয়ার কুলার কেনার সময় বিদ্যুতের খরচ কেমন হবে তা দেখে নিতে ভুলবেন না। সাধারণত আধুনিক কুলারগুলো অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়। এসির তুলনায় এদের বিদ্যুতের খরচ অনেক কম। কিছু আধুনিক কুলারে ইনভারটার টেকনোলজি যুক্ত থাকে যা বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী করে তোলে (যদিও বিদ্যুৎ চলে গেলে কুলার চালানোর জন্য আলাদা ইনভারটার সংযোগের প্রয়োজন হয়)।

গরমকালে এসি-র চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী বিকল্প এয়ার কুলার। উপরের বিষয়গুলি খেয়াল রেখে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক এয়ার কুলারটি বেছে নিলে আপনি বিদ্যুতের খরচ বাঁচিয়ে গরম থেকে আরাম পেতে পারেন এবং আপনার বাইক চালানোর মতো আপনার ঘরেও ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে পারেন।