AI-থেকে বাঁচতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হলিউড তারকাদের চিঠি, স্বাক্ষর করলেন ৪০০ জন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে শিল্পীদের কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এবং তাঁদের সৃষ্টিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে – এমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে একটি চিঠি দিয়েছেন দেশটির ৪০০-এর বেশি প্রখ্যাত শিল্পী, লেখক ও নির্মাতা। এদের মধ্যে স্যার এলটন জন, ডুয়া লিপা, স্যার ইয়ান ম্যাককেলেন, ফ্লোরেন্স ওয়েলচ এবং স্যার পল ম্যাকার্টনির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।
এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং স্পষ্ট নীতি তৈরি না করা হয়, তাহলে তাদের সৃষ্টিশীল কাজগুলি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে কার্যত বিনামূল্যে পৌঁছে যাবে। তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের কপিরাইটযুক্ত গান, লেখা, ছবি বা অন্যান্য শিল্পকর্ম বিনা অনুমতি ও পারিশ্রমিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিঠিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে “মৌলিক শিল্পের পাওয়ার হাউজ হিসাবে যুক্তরাজ্যের অবস্থানও মারাত্মক ঝুঁকিতে” পড়বে। এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
এই শিল্পীরা হাউজ অব লর্ডসে ব্যারোনেস বিবান কিড্রনের প্রস্তাবিত একটি সংশোধনীর প্রতি তাঁদের জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। এই সংশোধনীতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, এআই মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটপ্রাপ্ত উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। শিল্পীরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং তাঁদের সৃষ্টির জন্য ন্যায্য মূল্য বা পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে তাঁদের সম্মিলিত বক্তব্য, “আমরাই জাতীয় গল্প তুলে ধরি, উদ্ভাবন করি; আমাদের সৃষ্টির মূল্য দিতে হবে।”
এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে কাজুও ইশিগুরো, কেট বুশ, ব্যান্ড কোল্ডপ্লে, চিত্রনাট্যকার রিচার্ড কার্টিস ও নাট্যকার টম স্টপার্ড সহ আরও বহু প্রভাবশালী শিল্পী ও লেখক স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে, এআই নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি ‘নীরব অ্যালবাম’ প্রকাশ করেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী অ্যানি লেনক্স ও ডেমন অ্যালবার্ন।
এই চিঠি প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে যে, তারা শিল্পী এবং প্রযুক্তি খাত – উভয়ের জন্যই উপকারী হবে এমন একটি নীতি প্যাকেজ বিবেচনা করছে। তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যদি কপিরাইট আইন খুব কঠোর করা হয়, তাহলে এআই উদ্ভাবন এবং গবেষণা যুক্তরাজ্য থেকে বিদেশে সরে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এআইয়ের দ্রুত বিকাশের যুগে কপিরাইট এবং শিল্পীর অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক বিশ্বজুড়েই চলছে। যুক্তরাজ্যে ৪০০-এর বেশি প্রখ্যাত শিল্পী ও নির্মাতার এই চিঠি ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং এআই ও সৃষ্টিশীল শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।