পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার, জেনেনিন সহজ পদ্ধতি

বাড়িতে বা অফিসে ওয়াই-ফাই সংকেত দুর্বল? নতুন দ্রুতগতির রাউটার ব্যবহার করেও বাড়ির সব প্রান্তে সমান সংকেত পাচ্ছেন না? কিছু নির্দিষ্ট ঘরে বা এলাকায় ইন্টারনেটে সমস্যা হচ্ছে যাকে ‘ডেড জোন’ বলা হয়? তাহলে একটি সহজ অথচ সাশ্রয়ী উপায় অবলম্বন করে দেখতে পারেন – আপনার পুরোনো অব্যবহৃত রাউটারটিকে ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার বা রিপিটার হিসাবে কাজে লাগিয়ে ফেলুন। নতুন সিগন্যাল বুস্টার ডিভাইস বা মেশ নেটওয়ার্ক সিস্টেম না কিনেও এর মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সংকেত বিস্তৃত করে কাভারেজ এলাকা বাড়ানো সম্ভব।

অনেক সময় একটি শক্তিশালী রাউটারও বড় বাড়ি বা অফিসের সমস্ত কোণে সমানভাবে Wi-Fi সংকেত পৌঁছে দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে সিগন্যাল বুস্টার বা নতুন মেশ নেটওয়ার্ক ডিভাইস কেনার প্রয়োজন হতে পারে, যা বেশ ব্যয়বহুল। কিন্তু পুরোনো রাউটারকে সঠিকভাবে কনফিগার করে কাজে লাগালে কম খরচে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। পুরোনো রাউটারকে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বাড়াতে প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যেতে পারে:

১. Access Point (AP) Mode-এ ব্যবহার (ইথারনেট সংযোগ): এটি Wi-Fi সংকেত বিস্তৃত করার একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পুরোনো রাউটারটিকে Access Point (AP) Mode-এ কনফিগার করতে হয় এবং সেটিকে একটি ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। এর ফলে আপনার নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব অনেক ভালো থাকবে এবং সংকেত যেখানে দুর্বল সেখানে শক্তিশালী কভারেজ পাওয়া যাবে। এই পদ্ধতি সেটআপ করার জন্য প্রথমে পুরোনো রাউটারটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে নেওয়া উচিত এবং তার ফার্মওয়্যার লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করে নিন। এরপর রাউটারের ওয়েব সেটিংসে প্রবেশ করে AP মোড অপশনটি চালু করুন এবং নির্দেশ অনুযায়ী পুরোনো রাউটারের LAN পোর্ট থেকে মূল রাউটারের WAN পোর্টে (অথবা আপনার রাউটারের ম্যানুয়াল অনুযায়ী সঠিক পোর্টে) কেবল সংযোগ দিন।

২. রিপিটার মোডে ব্যবহার (তারহীন সংযোগ): যদি মূল রাউটার থেকে পুরোনো রাউটার পর্যন্ত ইথারনেট কেবল টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করতে পারেন। এই মোডে পুরোনো রাউটারটি মূল ওয়াই-ফাই সংকেতকে বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে গ্রহণ করবে এবং সেটিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে নতুন একটি Wi-Fi নেটওয়ার্ক নাম (SSID) দিয়ে পুনঃসম্প্রচার করবে। এটি সুবিধাজনক হলেও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, রিপিটার মোডে ইন্টারনেট স্পিড মূল রাউটারের গতির তুলনায় কিছুটা কমে যেতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে যেখানে কেবল টানা সম্ভব নয়, সেখানে এটি একটি ভালো বিকল্প।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: মনে রাখবেন, সব পুরোনো রাউটার Access Point বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। আপনার রাউটারটি এই ফিচারগুলি সমর্থন করে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা প্রস্তুতকারকের ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট মডেলের জন্য নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিছু উন্নত রাউটারে ওপেন সোর্স বা থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ইনস্টল করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব, তবে এর জন্য কিছুটা প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা প্রয়োজন হয়।

বিকল্প ও উন্নত সমাধান: মেশ নেটওয়ার্ক: যদি আপনি আরও নিরবিচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির সংকেত কাভারেজ চান এবং বাজেট বেশি থাকে, তাহলে মেশ নেটওয়ার্ক (Mesh Network) সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। এটি একাধিক নোড বা স্যাটেলাইট ডিভাইস ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেখানে একটি সিঙ্গেল নেটওয়ার্ক নাম ব্যবহার করা হয় এবং ডিভাইসগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী সংকেতে সুইচ করে নেয়। এটি রিপিটার বা AP মোডের তুলনায় তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও বড় এলাকার জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরবিচ্ছিন্ন সমাধান।

সব মিলিয়ে, পুরোনো রাউটারকে এক্সটেন্ডার হিসাবে ব্যবহার করাটা একদিকে যেমন আপনার পকেটের জন্য সাশ্রয়ী, তেমনই অব্যবহৃত ডিভাইসকে নতুন জীবন দেওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধবও বটে। একটু সময় নিয়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটআপ করতে পারলে Wi-Fi সংকেত সমস্যার চমৎকার সমাধান পাওয়া যায় এবং আপনার স্মার্ট ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরোনো ডিভাইসও হয়ে উঠতে পারে নতুন শক্তি ও গতির উৎস।