“পরকীয়ায় জড়িয়েছেন স্বামী”-Chat GPT-র কথায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলা স্ত্রীর

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো হয়তো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দেয়নি, তবে এরই মধ্যে এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির মতো শক্তিশালী টুল যে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, তার এক অদ্ভুত উদাহরণ সামনে এসেছে গ্রিসে।

সম্প্রতি গ্রিসের এক নারী তার ১২ বছরের সাজানো সংসার ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেবল চ্যাটজিপিটির বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে। তাদের এক দশকের বেশি সময়ের বিবাহিত জীবনে দুটি সন্তানও রয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ ১২ বছর সংসার করার পর ওই নারীর সন্দেহ হয় যে তার স্বামী হয়তো পরকীয়ায় জড়িত। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় তিনি দ্বারস্থ হন চ্যাটজিপিটির। তিনি তার এবং তার স্বামীর কফি কাপের ছবি তুলে চ্যাটবটের কাছে বিশ্লেষণ জানতে চান।

চ্যাটজিপিটি সেই ছবির বিশ্লেষণ করে যে উত্তর দেয়, তাতেই ওই নারী বিবাহবিচ্ছেদের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন। চ্যাটজিপিটি ওই নারীকে জানায় যে তার স্বামী তার চেয়ে কম বয়সী এক যুবতীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, এআই আরও দাবি করে যে সেই যুবতীর নাম ‘ই’ অক্ষর দিয়ে শুরু।

এআইয়ের কাছ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই ওই নারী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান এবং বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন।

বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী স্বামী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম ও মজা করছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, আমার স্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে মামলা করেছে।”

তবে এই ঘটনা আদালতের আইনজীবীদেরও হতবাক করেছে। তাঁরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো ‘ভবিষ্যৎবাণী’ বা বিশ্লেষণ আদালতে প্রমাণ হিসেবে আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন সম্ভবত গ্রিসের বিচার ব্যবস্থায় এটিই প্রথম ঘটনা। এই অদ্ভুত মামলাটি এখন আদালত কীভাবে পরিচালনা করে, সেটাই দেখার বিষয়।