বিটকয়েন কোম্পানি আনছেন ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উপদেষ্টা? জেনেনিন কী রাখছেন নাম?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উপদেষ্টা এবং জনপ্রিয় মিডিয়া গ্রুপ বিটিসি-এর (BTC Inc.) সিইও (CEO) ডেভিড বেইলি বিটকয়েন বিনিয়োগের জগতে এক নতুন এবং অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোম্পানি চালু করছেন। ‘নাকামোতো’ নামের এই কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত (পাবলিকলি ট্রেডেড) হবে এবং এর জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা এই উদ্যোগের বিশাল স্কেলকে নির্দেশ করে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই বিটকয়েন বিনিয়োগ কোম্পানি শুরুর জন্য ডেভিড বেইলি প্রায় ৩০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছেন। এই চুক্তিটির পরিকল্পনা গত জানুয়ারি মাস থেকে চলছে। মোট তহবিলের মধ্যে ২০ কোটি ডলার এসেছে ইক্যুইটি ফান্ডিং থেকে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির মালিকানার অংশ কিনেছেন। বাকি ১০ কোটি ডলার এসেছে কনভার্টিবল ডেট বা শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য ঋণ হিসেবে, যা ভবিষ্যতে শেয়ারে রূপান্তরিত হতে পারে। তবে এই তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেশন’ (Information) প্রথম এই খবর প্রকাশ করে, পরে সিএনবিসিও (CNBC) তা নিশ্চিত করে।

ডেভিড বেইলির এই নতুন কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে ‘নাকামোতো’। বিটকয়েনের ছদ্মনামধারী এবং রহস্যময় নির্মাতা সাতোশি নাকামোতো-কে শ্রদ্ধা জানাতেই এমন নাম রাখা হয়েছে। কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন কেনা এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে তা ধরে রাখা।

এই কোম্পানিটি নাসডাক-এ (NASDAQ) ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হবে বলে জানা গেছে, যা এর শেয়ার বাজারে দ্রুত প্রবেশের পথ তৈরি করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিষয়ে আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সব ঠিক থাকলে আগামী গ্রীষ্মেই কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ‘নাকামোতো’ কেবল আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোম্পানি কিনতে আগ্রহী। এসব কোম্পানি কেনার পর তাদের মূল পরিকল্পনা হলো সেই অর্থ ব্যবহার করে বিটকয়েনে বড় আকারের বিনিয়োগ করা। এই উদ্যোগের পেছনে বেশ কিছু বিখ্যাত বিনিয়োগকারীদের হাত রয়েছে এবং কোম্পানির উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা বোর্ডেও আছেন কিছু খ্যাতনামা ব্যক্তি, যা এই প্রকল্পের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

বিটকয়েন বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলি সাধারণত শেয়ার বিক্রি ও ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে, যা তারা বিটকয়েন কেনা ও দীর্ঘকাল ধরে রাখতে ব্যবহার করে। এসব কোম্পানির শেয়ার কেনার অর্থ হচ্ছে সরাসরি বিটকয়েন না কিনেও বিটকয়েনের দাম বাড়লে লাভবান হওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ, এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য পরোক্ষভাবে বিটকয়েনের বাজারে অংশগ্রহণের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

উল্লেখ্য, ডেভিড বেইলির আগে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি একই ধরনের উদ্যোগে সাফল্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন ‘স্ট্র্যাটেজি’র (পূর্বে মাইক্রোস্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল সেইলর। তিনি ২০২০ সালে কোম্পানির নগদ অর্থ দিয়ে বড় আকারে বিটকয়েন কেনা শুরু করেন, যা কোম্পানিটিকে সফটওয়্যার কোম্পানি থেকে মূলত একটি বিটকয়েন হোল্ডিং কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে। বিটকয়েনের দাম বাড়তে থাকায় ‘স্ট্র্যাটেজি’র শেয়ারের দামও অনেক বেড়েছে এবং এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিটকয়েন মালিকদের মধ্যে অন্যতম।

এছাড়াও, বিটকয়েন পেমেন্ট অ্যাপ ‘স্ট্রাইক’ (Strike) চালু করে খ্যাতি অর্জন করা জ্যাক ম্যালার্সও সম্প্রতি ‘টোয়েন্টি ওয়ান’ (Twenty One) নামের একটি নতুন কোম্পানি চালু করেছেন, যেটি বিটকয়েন কেনে ও ধরে রাখে। এই কোম্পানির জন্য ম্যালার্স হাজার হাজার কোটি অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং তাকে সহায়তা করছে সফটব্যাংক (Softbank) ও টিথার (Tether)-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠান।

সব মিলিয়ে, ডেভিড বেইলির ‘নাকামোতো’ কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিটকয়েন বিনিয়োগের জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিটকয়েনে প্রবেশের আরও একটি বড় রাস্তা খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।