“কথা বলতে পারবে বাক শক্তি হারানো রোগী!”-নিউরালিংকের ডিভাইসকে ‘বিশেষ’ স্বীকৃতি দিল FDA

ইলন মাস্কের ব্রেইন-চিপ নির্মাতা কোম্পানি নিউরালিংকের তৈরি একটি বিশেষ ডিভাইসকে ‘ব্রেকথ্রু ডিভাইস’ বা বিশেষ উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। এই স্বীকৃতি নিউরালিংকের প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন ও অনুমোদনের পথ খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউরালিংক বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, তাদের তৈরি এই ব্রেইন ইমপ্লান্ট গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত এমন মানুষদের হারানো কথা বলার সক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তি অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস), স্ট্রোক, মেরুদণ্ডের আঘাত, সেরিব্রাল পলসি ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো গুরুতর রোগে যারা কথা বলার বা স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগের সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের ‘ব্রেকথ্রু ডিভাইস প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য হচ্ছে সম্ভাবনাময় চিকিৎসা যন্ত্রপাতিকে দ্রুত উন্নয়ন, অনুমোদন ও বাজারজাত করার জন্য সহায়তা দেওয়া। এই কার্যক্রমের আওতায় থাকা ডিভাইসগুলোর মূল্যায়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াও সাধারণের চেয়ে তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয়।

উল্লেখ্য, নিউরালিংক ইতিমধ্যেই মানুষের ওপর তাদের ব্রেইন চিপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (২০২৫) নিউরালিংক তৃতীয় একজন রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্রেইন চিপ স্থাপন করে। ওই সময় এক বিবৃতিতে ইলন মাস্ক জানান, নিউরালিংক ২০২৫ সালের মধ্যেই আরও ২০ থেকে ৩০ জন রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিভাইস বসানোর পরিকল্পনা করেছে।

এই বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানতে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও নিউরালিংক বা এফডিএ কোনও পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

এই ‘ব্রেকথ্রু ডিভাইস’ স্বীকৃতি নিউরালিংকের প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এটি ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে বিবেচিত হচ্ছে।