চীন থেকে আইফোন উৎপাদন ভারতে ‘সরাচ্ছে’ অ্যাপল, ট্রাম্পের শুল্কের চাপে সিদ্ধান্ত!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্কের জেরে নিজেদের উৎপাদন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এরই অংশ হিসেবে আইফোনের উৎপাদন চীন থেকে বড় আকারে ভারতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মূলত নিজেদের সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইনকে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিয়ে বৈচিত্র্য আনার নিজস্ব কৌশল অ্যাপলের আগে থেকেই ছিল। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধ যে এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও জোরালো করেছে, সে বিষয়টি ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ফাইনান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে অ্যাপলের এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারত থেকে বছরে ৬ কোটির বেশি আইফোন উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অ্যাপল।

বর্তমানে বেশিরভাগ আইফোন তৈরি হয় চীনে। কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের পণ্যের উপরই সবচেয়ে বেশি হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। এই শুল্কের কারণে চীনে উৎপাদন করে সেই ফোন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে গেলে ফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুল্কের এই চাপ এড়াতেই অ্যাপল চীন থেকে তাদের কারখানা ও উৎপাদন ক্ষমতা সরিয়ে এশিয়ার অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন রপ্তানি করতে আরও বেশি তৎপর হয়েছে। ফাইনান্সিয়াল টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আইফোনের বিপুল চাহিদা মেটাতে হলে অ্যাপলকে এখন ভারতেই তাদের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে।

যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প, পরে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এও স্পষ্ট করেছে যে, স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের বিষয়টি হবে একটি সাময়িক পদক্ষেপ, স্থায়ী নয়।

উল্লেখ্য, তুলনামূলক সস্তা শ্রম, সহজে কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং উন্নত অবকাঠামোগত সুবিধার কারণে চীনে পণ্য উৎপাদনের খরচ যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অনেক বড় কোম্পানিই এতদিন চীনে তাদের পণ্য বানিয়ে বিশ্বজুড়ে বিক্রি করত।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, চীনের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুধু অ্যাপলের পণ্য নয়, সাধারণ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে অ্যাপল তাদের সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আশা করা হচ্ছে, সেই প্রতিবেদনে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব এবং এর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।