ফেইসবুক নয়, জাকারবার্গ ইনফ্লুয়েন্সারদের ফলো করেন কোথায়? জেনেনিন উত্তর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জগতে একসময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্ম ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা নিয়ে স্বয়ং এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ উদ্বিগ্ন। শুধু তাই নয়, মেটার অভ্যন্তরীণ ফাঁস হওয়া কিছু ইমেইল থেকে জানা গেছে, তিনি নিজেই ফেইসবুকের চেয়ে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ফলো করতে বেশি পছন্দ করেন। মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)-এর একটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া এই ইমেইলগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সিএনবিএন এবং বিজনেস ইনসাইডার সহ বিভিন্ন আমেরিকান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাকারবার্গ ও মেটার তৎকালীন ফেইসবুক প্রধান টম এলিসনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এই ইমেইলগুলোতে ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা নিয়ে কোম্পানির ক্রমাগত উদ্বেগের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া বার্তাগুলোতে দেখা গেছে, জাকারবার্গ কয়েক বছর ধরেই ফেইসবুকের জনপ্রিয়তায় সম্ভাব্য স্থান হারানোর বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

বিজনেস ইনসাইডার কর্তৃক প্রকাশিত জাকারবার্গের ওই ইমেইল বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “অনেক জায়গায় ফেইসবুক অ্যাপের সম্পৃক্ততা স্থিতিশীল মনে হলেও জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে অ্যাপটির এবং আমি উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার একটি প্রধান সূচক হতে পারে এটি।”

জাকারবার্গ ইমেইলে স্বীকার করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে তাঁর নিজের অভ্যাসও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন তিনি ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে বর্তমানে এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ইনফ্লুয়েন্সারদের ফলো করতে বেশি আগ্রহী। মেটা প্রধান ব্যাখ্যা করেছেন, “অন্যান্য আধুনিক সামাজিক নেটওয়ার্ক মূলত বন্ধুত্বের বদলে কাউকে ফলো করার জন্য তৈরি। তাই মনে হচ্ছে, আমাদের ফেইসবুক অ্যাপটি পুরানো হয়ে যেতে পারে। কারণ ফেইসবুক কখনো এই ফলোর মতো মৌলিক উদ্ভাবনটি গ্রহণ করেনি।”

একইসঙ্গে জাকারবার্গ ফেইসবুক গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ইমেইলে লিখেছেন, “ফেইসবুকের কমিউনিটি মেসেজিং সম্পর্কে আমি আশাবাদী হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে অ্যাপটিতে কাজ করার পর আমি নিশ্চিত নই যে, আমরা এটিকে আরও কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।”

এলিসনের সঙ্গে কথোপকথনে জাকারবার্গ অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ভালো পারফর্ম করলেও ফেইসবুকের সাফল্য মেটার সামগ্রিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ইনস্টাগ্রাম ও ফেইসবুকের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের এমন একটি কৌশল খুঁজে বের করা দরকার, যাতে একটি পরিষেবা অন্য পরিষেবার ফেলে আসা বিভিন্ন বিষয় তুলে না নেয় বা কোনও পরিষেবা কৃত্রিম বা অযৌক্তিকভাবে নিজেদের সীমাবদ্ধ করে না ফেলে।” জাকারবার্গ আরও জানান, “এই মুহূর্তে ইনস্টাগ্রাম জনপ্রিয়তার দিক থেকে ভালো করছে এবং ফেইসবুক তা করছে না। তাই আমি ফেইসবুকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী যুক্তিসঙ্গত পথ খুঁজে বের করার দিকে বেশি মনোযোগী।”

এফটিসি মামলায় প্রমাণ হিসেবে এই ইমেইলগুলো ফাঁস হওয়ায় ফেইসবুকের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরের চিন্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিযোগিতামূলক বাজার সম্পর্কে নতুন করে অনেক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ফাঁস হওয়া বার্তাগুলো বুঝিয়ে দেয় যে, ফেইসবুক তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং পরিবর্তিত ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে প্রাসঙ্গিক থাকতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।