‘আয়রনম্যান’-এর স্বপ্ন সত্যি! বিশ্বের প্রথম স্পর্শযোগ্য থ্রিডি হলোগ্রাম তৈরি করলো বিজ্ঞানীরা

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিভিত্তিক সিনেমা, বিশেষত ‘আয়রনম্যান ২’-এর মতো চলচ্চিত্রে আমরা প্রায়শই অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রযুক্তির ঝলক দেখেছি। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আয়রনম্যান’ সিনেমায় টনি স্টার্কের ভার্চ্যুয়াল থ্রিডি হলোগ্রাম ব্যবহারের দৃশ্য দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছিল। এবার সেই সিনেমায় দেখানো প্রযুক্তির আদলে বিশ্বের প্রথম স্পর্শনির্ভর ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন স্পেনের পাবলিক ইউনিভার্সিটি অব নাভাররার একদল বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞানীরা ইলাস্টিক ডিফিউজার স্ট্রিপ ব্যবহার করে এই যুগান্তকারী থ্রিডি হলোগ্রামটি তৈরি করেছেন। তাদের দাবি, এই হলোগ্রামটি শুধু দেখা যাবে না, হাত দিয়ে স্পর্শ করেও অনুভব করা যাবে।

সাধারণত, হলোগ্রাম সুইপ্ট ভলিউমেট্রিক ডিসপ্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এর মূলনীতি হলো, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন হাজার বার বিভিন্ন উচ্চতায় একটি দ্রুত স্পন্দিত কঠিন পৃষ্ঠের উপর চিত্র প্রক্ষেপণ করা। এই স্পন্দিত পৃষ্ঠকে বিজ্ঞানীরা ডিফিউজার বলে থাকেন। এই প্রযুক্তির ফলে কোনো বিশেষ চশমা ছাড়াই ত্রিমাত্রিক বস্তু অবলোকন করা সম্ভব হয়। ডিফিউজারের দ্রুত গতি মানুষের চোখে এটিকে প্রায় অদৃশ্য করে তোলে।

তবে স্পেনের এই গবেষক দল ফ্লেক্সিবল স্পর্শনির্ভর থ্রিডি হলোগ্রাম তৈরির জন্য ইলাস্টিক ব্যান্ডকে সবচেয়ে উপযুক্ত উপাদান হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে স্পর্শনির্ভর স্মার্টফোনের পর্দায় যেভাবে ত্রিমাত্রিক ছবি দেখা যায়, ঠিক তেমনই এই নতুন থ্রিডি হলোগ্রাম দেখার সময় স্পর্শ করাও সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, হলোগ্রাফি হলো এমন একটি অত্যাধুনিক ফটোগ্রাফিক প্রযুক্তি, যা কোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক প্রতিচ্ছবি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তিতে নির্মিত ত্রিমাত্রিক ছবি ‘হলোগ্রাম’ নামে পরিচিত।

পাবলিক ইউনিভার্সিটি অব নাভাররার বিজ্ঞানীদের এই অভাবনীয় উদ্ভাবন ভবিষ্যতে ত্রিমাত্রিক ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এর ব্যবহার revolutionize করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: নিউ অ্যাটলাস