আদালতের রায়ে বিক্রি হতে পারে ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ, জেনেনিন কেন?

টিকটকের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটা। মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) অভিযোগ তুলেছে, মেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করেছে। তাদের দাবি, প্রতিযোগীদের দমাতে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ কিনে নিয়েছে মেটা। আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে, মেটাকে এই দুটি অ্যাপ বিক্রি করে দিতে হতে পারে।

গত সপ্তাহে এফটিসি জানায়, মেটা নিজেদের বাজার ধরে রাখতে অসাধু কৌশল অবলম্বন করেছে। প্রতিযোগীদের দুর্বল করতেই তারা ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম এবং ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে। এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিকল্প কমে গেছে এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ কমিশনের।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় মেটার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ চিত্রও বদলে যেতে পারে।

আগামীকাল থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হতে চলেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এর প্রস্তুতি চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকাল থেকেই এই মামলার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের পক্ষ থেকেই মেটার একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে মেটা আদালতে যুক্তি দিয়েছে, তারা প্রতিনিয়ত টিকটক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছে। তাই একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ সঠিক নয়।

অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে প্রমাণ করতে হবে গত এক দশকে মেটার এই আচরণ ব্যবহারকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল কিনা। মামলার ভবিষ্যৎ মূলত এই প্রশ্নের উত্তরের উপরই নির্ভরশীল।

এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে মেটা কনটেন্ট যাচাইয়ের ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ায় নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই আইনি লড়াই মেটার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।