আইপ্যাড অ্যাপ নিয়ে ‘কাজ করছে’ ইনস্টাগ্রাম?- শিগ্রই মিলবে সুখবর

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, যা ২০১০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম, অবশেষে আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাপ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এতদিন ধরে ট্যাবলেট ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র অ্যাপ না থাকায় অনেকেই হতাশ ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে খবর, ইনস্টাগ্রাম গোপনে তাদের আইপ্যাড অ্যাপ তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি মন্তব্য করেছিলেন যে, নেটিভ অ্যাপ তৈরির জন্য যথেষ্ট সংখ্যক আইপ্যাড ব্যবহারকারী নেই। তবে এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবশেষে ইনস্টাগ্রাম তাদের এই ধারণায় পরিবর্তন আনতে পারে। এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে আমেরিকান মিডিয়া কোম্পানি ‘ইনফরমেশন’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনস্টাগ্রামের একজন কর্মী ‘ইনফরমেশন’কে জানিয়েছেন, এই বছরই ইনস্টাগ্রাম একটি ডেডিকেটেড আইপ্যাড অ্যাপ নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে আইপ্যাডে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের একমাত্র উপায় হলো আইফোন অ্যাপের জুম ইন করা সংস্করণ, যা বড় স্ক্রিনে ব্যবহারকারীদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা দেয় না।

বেশিরভাগ প্রযুক্তি সংস্থাই এক দশক আগেই উপলব্ধি করেছে যে, ফোনের অ্যাপকে ট্যাবলেট বা অন্য কোনো বড় ডিভাইসে ব্যবহার করা ব্যবহারকারীর জন্য অনুকূল অভিজ্ঞতা নয়। কারণ, ট্যাবলেটের স্ক্রিনের আকৃতির অনুপাত ফোনের থেকে অনেকটাই আলাদা, যা ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট দেখার সময় বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

এনগ্যাজেট তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আইপ্যাডের প্রতি ইনস্টাগ্রামের এই আকস্মিক আগ্রহের কারণ হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা। বিশেষত, জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ায় ইনস্টাগ্রাম সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইছে।

‘ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম সম্প্রতি ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ‘এডিটস’ নামে একটি নতুন অ্যাপ নিয়েও প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে, যা টিকটকের মূল সংস্থা বাইটড্যান্সের জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ‘ক্যাপকাট’-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে। এছাড়াও, ইনস্টাগ্রাম তাদের কনটেন্ট সার্চের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বলেও জানিয়েছেন অ্যাডাম মোসেরি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইনস্টাগ্রামের ডেডিকেটেড আইপ্যাড অ্যাপের খবরে আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা স্বভাবতই উৎসাহিত। এখন দেখার বিষয়, কবে নাগাদ এই অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসে এবং ট্যাবলেটে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কেমন হয়।