ইনস্টাগ্রামে লাইভস্ট্রিমিং নিষিদ্ধ হচ্ছে ১৬ বছরের নিচে, এবার লাগবে পিতামাতার অনুমতি

১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ইনস্টাগ্রামের লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা ব্যবহার করতে হলে এখন থেকে তাদের পিতামাতার অনুমতি নিতে হবে। মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।

‘টিন অ্যাকাউন্টস’ নামের সুরক্ষা ফিচারে এই নতুন আপডেটের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীরা এখন থেকে ইনস্টাগ্রামে ‘অটো ব্লারিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি ও ভিডিও ঝাপসা করার ফিচারটিও বন্ধ করতে পারবে না। বিশেষ করে প্রাইভেট মেসেজের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এর ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের পাঠানো সম্ভাব্য আপত্তিকর বা সংবেদনশীল ছবি এবং ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝাপসা হয়ে থাকবে, যা কম বয়সি ব্যবহারকারীদের অপ্রত্যাশিত কনটেন্টের হাত থেকে রক্ষা করবে।

মেটা তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ ফিচারটি তাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক ও মেসেঞ্জারেও চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কম বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সামগ্রিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করাই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।

প্রাথমিকভাবে এই পরিবর্তনগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই চারটি দেশে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করবে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর বিশ্বব্যাপী এটি প্রয়োগ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ইনস্টাগ্রাম কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ ফিচারটি প্রথম চালু করেছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কম বয়সি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারে কিছু প্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা আনা। নতুন এই আপডেট সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স সীমা নির্ধারণের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে তাই অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম বয়সিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন তরুণ ব্যবহারকারীরা সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই তাদের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের অনলাইন কার্যকলাপ নিয়ে কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।