ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মাস্কের মামলার বিচার, শুনানি কবে?-জানিয়ে দিলো আদালত

বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আনা বহুল আলোচিত মামলাটির বিচার শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের বসন্তে। শুক্রবার মামলার ফেডারেল বিচারক এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ওপেনএআই এবং ইলন মাস্ক উভয়েই এই লাভজনক কোম্পানিতে ওপেনএআইয়ের রূপান্তর নিয়ে দ্রুত বিচার শুরু করতে সম্মত হন। এই ঘটনাটি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের মধ্যে চলমান দীর্ঘ বিরোধের সর্বশেষ পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ইভোন গঞ্জালেজ রজার্স চ্যাটজিপিটি নির্মাতার লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তর স্থগিতের জন্য মাস্কের আবেদন খারিজ করে দেন এবং দ্রুত বিচারের প্রস্তাব দেন।
২০১৫ সালে স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ইলন মাস্ক ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে কোম্পানিটি তার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকার সময়ই মাস্ক এটি ছেড়ে যান। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে মাস্ক ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি স্টার্টআপ, এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন। গত মাসের শেষ দিকে মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি এক্স (আগের টুইটার) কে তিন হাজার তিনশ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করে তারই এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপ এক্সএআই।
গত বছর টেসলার সিইও ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেন যে ওপেনএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতারা মূলত মানবতার কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরির উপর মনোযোগ দেবে—এমন একটি অলাভজনক তহবিল তৈরির জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বর্তমানে কোম্পানিটি তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
ওপেনএআই এবং স্যাম অল্টম্যান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কোম্পানির প্রধান স্যাম অল্টম্যান বলেছেন যে মাস্ক একজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধীর করার চেষ্টা করছেন। কোম্পানি আরও জানিয়েছে যে তাদের মূলধন বৃদ্ধি করতে এবং সেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে এই লাভজনক রূপান্তর তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারীদের একটি কনসোর্টিয়াম ওপেনএআইকে অধিগ্রহণের প্রস্তাবও দিয়েছিল। জবাবে, স্যাম অল্টম্যান মাস্কের দেওয়া ৯ হাজার সাতশ ৪০ কোটি ডলারের প্রস্তাবের বিপরীতে এক্স কেনার জন্য তার এক দশমাংশ দাম প্রস্তাব করেছিলেন। এই পাল্টা প্রস্তাব উভয় পক্ষের মধ্যেকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জটিল পরিস্থিতিকেই তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ সালের বসন্তে শুরু হতে যাওয়া এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।