ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পরপরই বিটকয়েনের দামেও পতন, উদ্বিগ্ন ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক ঘোষণার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও। আবারও কমল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোমুদ্রা বিটকয়েনের দাম। মূল্য কমে যাওয়ার কারণে গত নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ দরপতনের নতুন রেকর্ড গড়েছে এই ডিজিটাল মুদ্রা।
বিটকয়েন ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিটকয়েনের দাম সবশেষ প্রায় ১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ডলারের নিচে, অর্থাৎ ৭৪ হাজার ৬৩৭ ডলারে। এই দরপতন নভেম্বরের পর থেকে বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় পতন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোমুদ্রা ইথেরিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার ইথারের দাম প্রায় ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এক হাজার ৬৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও বিটকয়েনের দামে বড় পতন দেখা গিয়েছিল, যখন মুদ্রাটির দাম ৮৯ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে তার মাত্র এক মাস আগেই, জানুয়ারিতে বিটকয়েন সর্বকালের সর্বোচ্চ এক লাখ আট হাজার ডলারের উপরে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিনই ক্রিপ্টোমুদ্রাটি এই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সেই সময় ট্রাম্প নিজেকে প্রথম ‘বিটকয়েন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিটকয়েন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্রিপ্টোমুদ্রা হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখেছে। তবে এই খ্যাতির পরেও, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে বিটকয়েনের এই সাম্প্রতিক দরপতন আবারও প্রমাণ করে যে মুদ্রাটি এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্পূর্ণরূপে ‘ডিজিটাল সোনার রূপ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির পদক্ষেপের উপর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার এখনও সংবেদনশীল বলে মনে করছেন তারা।