ডেটা সেন্টার নির্মাণে গতি কমাল মাইক্রোসফট, ৮০০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা বহাল

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে আট হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। তবে সাম্প্রতিক এক খবরে জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।
মার্কিন বাণিজ্য পত্রিকা ব্লুমবার্গ এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়, নর্থ ডেকোটা ও উইসকনসিনে ডেটা সেন্টার তৈরির প্রচেষ্টার গতি কমিয়েছে মাইক্রোসফট।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্র ব্লুমবার্গকে আরও জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার নির্মাণের আলোচনা থেকে সরে এসেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিত নির্মাণ প্রকল্পের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানোই মূলত এই ডেটা সেন্টারগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
তবে এই আপাত পরিবর্তনের পরেও মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, ২০২৫ অর্থবছরে ডেটা সেন্টারগুলোতে আট হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের বাজেট অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এর আগে, কোম্পানির ভাইস চেয়ার ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের একটি ব্লগ পোস্টে এই বিষয়ে ইঙ্গিত মিলেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিষেকের কিছুদিন আগে প্রকাশিত সেই পোস্টে তিনি নতুন মার্কিন প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছিলেন।
সে সময় ব্র্যাড স্মিথ লিখেছিলেন, “এআই বিকাশের এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এআই নীতির জন্য যে মৌলিক ধারণা ছিল, সেগুলো গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে। মাইক্রোসফটে আমরা এই যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত।”
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের প্রভাব থাকতে পারে। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে, যা ইতিমধ্যেই ওয়াল স্ট্রিটে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
যদিও মাইক্রোসফট তাদের আট হাজার কোটি ডলারের বাজেট ধরে রাখার কথা জানিয়েছে, তবে বেশ কিছু নির্মাণ প্রকল্পের গতি কমানো বা আলোচনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোম্পানিটি তাদের বিনিয়োগ কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।