ChatGPT-কে টেক্কা! ওয়েবসাইট ভিজিটে বাজিমাত চীনা AI-চ্যাটবট DeepSeek-এর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিশ্বে ক্রমশ নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে চীনা কোম্পানিগুলো। তারই প্রমাণ মিলল ডিপসিকের সাম্প্রতিক সাফল্যে। মাসিক ওয়েবসাইট ভিজিটের নিরিখে ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকেও পেছনে ফেলেছে এই চীনা চ্যাটবটটি। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট গিজচায়নার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এআই বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম এআইটুলসডটএক্সওয়াইজেডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিপসিকের ওয়েবসাইট ভিজিটের সংখ্যা ছিল ৫২ কোটি ৫০ লক্ষ। যেখানে চ্যাটজিপিটির ওয়েবসাইট ভিজিট ছিল ৫০ কোটি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টতই ডিপসিকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এআই বাজারে ডিপসিকের দখলে রয়েছে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে ৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে চ্যাটজিপিটি এবং ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্যানভা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও ডিপসিকের এই দ্রুত জনপ্রিয়তা এআই প্ল্যাটফর্মের পছন্দের পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ডিপসিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। জানুয়ারির শেষের দিকে এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া বিনামূল্যের অ্যাপ হিসেবে স্থান করে নেয়। সেই সময় মার্কিন অ্যাপ স্টোরের র্যাঙ্কিংয়েও ডিপসিক চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
কোয়েস্টমোবাইলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর দিক থেকেও ডিপসিক চ্যাটজিপিটিকে পেছনে ফেলে। ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটিতে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী অর্জন প্রযুক্তি খাতে বিরল ঘটনা।
গত জানুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পরপরই চীনা ডিপসিকের এআই মডেল আর১ প্রযুক্তি জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান রাতারাতি স্বল্প সময়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে। তাদের মতে, ডিপসিকের উত্থান এআই বাজারের গতি পরিবর্তনকে তুলে ধরছে। ওপেনএআই চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে এখনও শীর্ষ স্থানে থাকলেও, নতুন মডেলগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। ডিপসিকের মতো নতুন প্রতিযোগীদের আগমন এআই বাজারকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলছে। তাই চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ডিপসিকের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে এর দ্রুত অগ্রগতি প্রমাণ করে, এআই প্রযুক্তির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসন্ন।
উল্লেখ্য, মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ডিপসিক নিজস্ব ডেটা সেন্টার তৈরি করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ডিপসিকের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কম শক্তিশালী এনভিডিয়া এইচ৮০০ চিপ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আরও শক্তিশালী এইচ১০০ চিপ ব্যবহার করতে পারছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডিপসিকের এই অভাবনীয় সাফল্য প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।