টানা রিল দেখলে বাড়বে অন্ধত্বের ঝুঁকি, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা, জানুন কি করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়ার রিল ভিডিওর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণ প্রজন্ম এবং শিশুদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। অতিরিক্ত রিল দেখার কারণে মায়োপিয়া (অদূরদর্শিতা), শুষ্ক চোখের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টি ক্ষতির ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
মঙ্গলবার দিল্লির যশোভূমি-ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অফ অফথালমোলজি এবং অল ইন্ডিয়া অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় চক্ষু বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, মোবাইল স্ক্রিনে রিল দেখার সময় চোখের পলক ফেলার স্বাভাবিক হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে চোখের জল শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা শুষ্ক চোখের সমস্যা এবং অ্যামোকমেডেশন স্প্যামের (চোখের পেশীর খিঁচুনি) মতো জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডঃ ললিত ভার্মা সভায় বলেন, “ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে থাকার কারণে ডিজিটাল আই স্ট্রেন এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চোখের চাপ, ঝাপসা দৃষ্টি এবং অসহ্য মাথাব্যথার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ অদূরদর্শিতার সমস্যায় ভুগবে, যা ভবিষ্যতে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। AIOS-এর সভাপতি ডঃ সমর বসাক এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “মানুষ এখন রিলের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে তারা বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং সামাজিক মেলামেশা থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
এই মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ নামে পরিচিত। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন দেখার পর ২০ সেকেন্ডের জন্য অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো উচিত। এর পাশাপাশি, স্ক্রিনের সামনে থাকার সময় ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে চোখের বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সোশ্যাল মিডিয়ার রিলের নেশা থেকে মুক্তি এবং চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। অল্প বয়সে চোখের সমস্যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।