“খাবারের ছবি তুললেই জানাবে ক্যালোরি ও পুষ্টিগুণ”- AI ফুড স্ক্যানার আনল গবেষকরা

এবার মধ্যাহ্নভোজনের খাবারের একটি ছবি তুলেই জেনে নেওয়া যাবে তাতে কত ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট রয়েছে। অনুমান করা বা হাতে লেখার দিন শেষ। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নতুন এক প্রযুক্তি খাবারের ছবি দেখেই তার সম্পূর্ণ পুষ্টি বিশ্লেষণ করতে পারবে।

‘এনওয়াইইউ ট্যান্ডন স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর গবেষকরা এই যুগান্তকারী স্মার্ট ফুড স্ক্যানার তৈরি করেছেন। এই এআই টুলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ছবি থেকে খাবার শনাক্ত করতে এবং তার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে সক্ষম। বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট নোরিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই টুলটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের ওজন, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য খাদ্য সম্পর্কিত স্বাস্থ্য উদ্বেগকে সহজে পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, এই টুলটি বিশেষভাবে তাদের জন্য উপযোগী হবে যারা খাবারের পুষ্টির হিসাব রাখতে প্রচলিত পদ্ধতি যেমন তালিকা তৈরি করা বা ডায়েরি লেখার মতো কাজগুলি করে থাকেন। এই নতুন প্রযুক্তি তাদের সময় বাঁচাতে এবং আরও সহজে তথ্য পেতে সাহায্য করবে।

গবেষণার প্রধান ড. প্রবোধ পানিন্দ্রে বলেন, “আমরা কী খাচ্ছি তা নিজে থেকে জানানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের তৈরি করা এআই সিস্টেমটি সেই কাজটি নির্ভুলভাবে করবে এবং তথ্যের ত্রুটি দূর করবে।”

কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম?

গবেষকরা ‘ওয়াইওওয়াইওভিএইট’ (YOYOVAIET) নামের একটি শক্তিশালী ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নতুন এআই টুলটি তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি একটি ছবিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের খাবার শনাক্ত করতে পারে, এমনকি যদি খাবারগুলি একটির উপর আরেকটি রাখা থাকে বা আংশিকভাবে ঢাকা থাকে তবুও।

সারা বিশ্বের ২১৪ ধরনের খাবারের ৯৫ হাজার ছবি ব্যবহার করে এআই টুলটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই সিস্টেমটি পিৎজা ও হট ডগের মতো সাধারণ খাবার থেকে শুরু করে ইডলি, সাম্বার এবং বাকলাভার মতো জটিল খাবারও চিনতে সক্ষম।

এরপর সিস্টেমটি একটি ‘স্মার্ট ইমেজ প্রসেসিং’ কৌশল ব্যবহার করে খাবারের বিভিন্ন অংশের আকার অনুমান করে। এর মাধ্যমে একটি প্লেটে প্রতিটি খাবার কতটা জায়গা নিয়েছে তা হিসাব করা হয়। সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য, এই টুল পরিচিত খাবারের ওজন এবং পুষ্টির তথ্যের একটি ডেটাবেস ব্যবহার করে।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, পুরনো পদ্ধতির বিপরীতে এই নতুন টুলটি সরাসরি একটি মোবাইল ওয়েবসাইটে কাজ করে। এটি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই। কেবল ফোনের ব্রাউজার খুলে খাবারের ছবি তুললেই তার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানা যাবে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই টুলটি বিভিন্ন খাবার শনাক্ত করতে এবং তাদের পুষ্টিমান অনুমান করতে প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভুল উত্তর দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এটি পিৎজার এক টুকরোতে ৩১৭ ক্যালোরি এবং একটি হট ডগে ২৮০ ক্যালোরি হিসেবে অনুমান করেছে, যা প্রচলিত পুষ্টি তথ্যের খুব কাছাকাছি।

যদিও এই টুলটি এখনও একটি প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে, গবেষকরা আশাবাদী যে এটি খুব শীঘ্রই দৈনন্দিন স্বাস্থ্য ট্র্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরাও তাদের রোগীদের খাদ্যতালিকা এবং পুষ্টির হিসাব রাখতে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।