“ভুল করে কোড পাঠিয়েছি, দয়া করে ফরোয়ার্ড করো”-এই ফাঁদে পা দিলেই সর্বনাশ

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য ফের নতুন বিপদ সংকেত। সম্প্রতি এক্সক্লুসিভ অফার বা ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাকের মতো লোভনীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতারণার খবর সামনে আসার পর, এবার হ্যাকাররা ওটিপি কোডকে হাতিয়ার করে নতুন ফাঁদ পাতছে। অসতর্ক হলেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে প্রতারকদের হাতে।

হ্যাকাররা প্রথমে আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নেয়। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার নম্বরে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কোড পাঠায় এবং সঙ্গে লেখে, ‘ভুল করে একটা কোড পাঠিয়ে ফেলেছি তোমার নম্বরে। দয়া করে এটা ফরোয়ার্ড করো।’ এই বার্তাটি যেহেতু আপনার পরিচিত কারো কাছ থেকে আসছে, তাই আপনি সহজেই বিশ্বাস করে ফেলতে পারেন। আর এই বিশ্বাসই ডেকে আনে চরম সর্বনাশ। ওটিপি কোডটি ফরোয়ার্ড করার সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাকাররা আপনার হোয়াটসঅ্যাপের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

কীভাবে বুঝবেন আপনার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়েছে কিনা:

  • যদি আপনি কোনো রহস্যময় ওটিপি কোড এবং এসএমএস পান, যা আপনি চাননি।
  • যদি আপনি কোনো রকম সতর্কতা ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যান।
  • যদি আপনি কোনো বন্ধুর কাছ থেকে এমন বার্তা পান যা সন্দেহজনক বা রহস্যময় মনে হয়।
  • যদি আপনি কোনোভাবেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে আর প্রবেশ করতে না পারেন।

সতর্ক থাকুন: কী করবেন এবং কী করবেন না:

  • কখনও আপনার ওটিপি কারো সাথে শেয়ার করবেন না. মনে রাখবেন, ওটিপি শুধুমাত্র আপনার জন্য এবং এটি ব্যক্তিগত তথ্য। কোনো সংস্থা বা অন্য কেউই আপনার ওটিপি চাওয়ার অধিকার রাখে না।
  • আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অবশ্যই চালু রাখুন। এটি আপনার অ্যাকাউন্টের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করবে।
  • যদি কোনো বন্ধুর কাছ থেকে কোনো রহস্যময় বার্তা পান, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না। বরং সরাসরি সেই বন্ধুকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
  • আপনার লিংকড ডিভাইসগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করুন। যদি কোনো সন্দেহজনক ডিভাইস দেখতে পান, তা অবিলম্বে রিমুভ করুন।
  • কোনো রকম সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট করুন।
  • প্রয়োজনে আপনার হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করুন এবং কঠোর করুন।
  • নিশ্চিত করুন যাতে কোনো অচেনা নম্বর আপনাকে হঠাৎ করে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ করতে না পারে। এই সেটিংস পরিবর্তন করে আপনি অবাঞ্ছিত গ্রুপে যোগ হওয়া এড়াতে পারবেন।

ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতাই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।