“আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে মানুষের”-ফেইসবুকের বিজ্ঞাপন ও ফ্রি ব্যবহার দুটোই বন্ধ হচ্ছে

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা একটি যুগান্তকারী প্রাইভেসি মামলার নিষ্পত্তির পর যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টার্গেট করা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এই পদক্ষেপ লাখ লাখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে বলে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
মেটা জানিয়েছে, লন্ডনের উচ্চ আদালতে এই মামলার বিচার এড়াতে আইনি চুক্তির পর তারা যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপনমুক্ত প্ল্যাটফর্ম সংস্করণের জন্য অর্থ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ২০২২ সালে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কোম্পানির বিরুদ্ধে মানবাধিকার কর্মী টানিয়া ও’ক্যারল মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ফেসবুক তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জন্য তাকে টার্গেট করছে, যা যুক্তরাজ্যের ডেটা সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন।
টানিয়ার এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে যুক্তরাজ্যের ডেটা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিস (আইসিও)। শুক্রবার উভয় পক্ষ এই বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। টানিয়া মেটার প্রতিশ্রুতিকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে কোম্পানিটি বিজ্ঞাপনের জন্য তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
টানিয়া বলেন, “মানুষের তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনো কোম্পানি অন্য কারও কাছে বিক্রি করুক, সে বিষয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। এই নিষ্পত্তি শুধু আমার জন্য নয়, প্রাইভেসির মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দেয় এমন সবার জন্য বিজয়। আমরা কেউই দশকের পর দশক ধরে নজরদারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়তে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার শুরু করিনি। এটি আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে সংযোগ রাখার ক্ষমতা হারানোর হুমকির মধ্যে জিম্মি করে ফেলেছে।”
আইসিও এই অবস্থান সমর্থন করে বলেছে, “কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই তাদের ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দকে সম্মান জানাতে হবে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার বন্ধ করার জন্য একটি স্পষ্ট পথ দিতে হবে।” টানিয়া আরও যোগ করেন, আইসিও-এর সমর্থন মেটার বিজ্ঞাপন-নির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের জন্য “শেষের সংকেত” বহন করে।
অন্যদিকে, মেটা টানিয়ার অভিযোগের সঙ্গে ‘মৌলিকভাবে’ দ্বিমত পোষণ করে বলেছে, তারা যুক্তরাজ্যের প্রাইভেসি আইন জিডিপিআর-এর অধীনে বাধ্যবাধকতা গুরুত্ব সহকারে পালন করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাজ্যে একটি সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক পরিষেবা চালুর কথা ভাবছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য ফি দিতে হবে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার রাজস্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ আসে বিজ্ঞাপন থেকে।
এই নিষ্পত্তি অন্যান্য ব্যবহারকারীদের জন্যও অনুরূপ মামলার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। টানিয়া বলেন, “এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ।”