2025-এর শুরুতেই 21700 কোটি ডলার খুইয়েছেন বিশ্বের ধনী প্রযুক্তি প্রধানরা, জেনেনিন বিস্তারিত

২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রধানরা মোট ২১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। এআই খাতে লাভ নিয়ে উদ্বেগ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শেয়ার মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার কারণে টেসলা, এনভিডিয়ার মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্য কমেছে। এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাপকহারে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শীর্ষ ধনীদের ক্ষতি
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স (বিবিআই) অনুযায়ী, শীর্ষ দশ মার্কিন প্রযুক্তি প্রধানদের মধ্যে মাত্র দুজন ২০২৫ সালে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পেরেছেন। এদের মধ্যে একজন টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক। বুধবার টেসলার শেয়ার মূল্য ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, তিনি এ বছর এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন।

মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেআই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার, যা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বেশি। বেজোস এ বছর ১৯৩ কোটি ডলার হারিয়েছেন এবং তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

অন্যান্য প্রযুক্তি প্রধানদের অবস্থা
গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ এবং সার্গেই ব্রিনের সম্পদও এ বছর কমেছে। পেইজ ১৭৫ কোটি ডলার এবং ব্রিন ১৬৪ কোটি ডলার হারিয়েছেন। এছাড়া, অ্যাপলের প্রধান টিম কুক এবং মাইক্রোসফটের সতীশ নাদেলার মতো প্রযুক্তি প্রধানরাও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

যারা লাভবান হয়েছেন
তবে, শীর্ষ ১৫ মার্কিন প্রযুক্তি প্রধানদের মধ্যে মাত্র দুজন এ বছর আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পেরেছেন এবং তাদের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ বেড়েছে ১১৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান বিল গেটসের সম্পদ বেড়েছে ১৩০ কোটি ডলার।

বাজারের অবস্থা
২০২৫ সালে প্রযুক্তি শেয়ার বাজারে ব্যাপক উত্থান-পতন দেখা গেছে। এআই খাতে লাভ নিয়ে উদ্বেগ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে, টেসলা এবং এনভিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্য কমেছে, যা শীর্ষ ধনীদের সম্পদে বড় প্রভাব ফেলেছে।

২০২৫ সালে শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রধানদের আর্থিক ক্ষতি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী এবং বাজারের জন্য একটি বড় সংকেত। প্রযুক্তি শিল্পের এই উত্থান-পতন ভবিষ্যতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে, মেটার মার্ক জাকারবার্গ এবং মাইক্রোসফটের বিল গেটসের মতো ব্যক্তিরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে লাভবান হয়েছেন, যা তাদের কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দেয়।