বিশেষ: ৫ মহাদেশ জুড়ে সাগরের তলদেশে কেবল স্থাপন করবে মেটা, নেওয়া হলো বড় উদ্যোগ

পাঁচটি মহাদেশ জুড়ে সাগরের তলদেশে প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল বসানোর ঘোষণা দিয়েছে মেটা, যা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান। নতুন এই প্রকল্পটির নাম ‘প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ’, যা সম্পন্ন হলে এটি হবে বিশ্বের দীর্ঘতম পানির নিচের কেবল প্রকল্প।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রকল্প?
মেটা জানিয়েছে, এই নতুন সাবমেরিন কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। এই অবকাঠামো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের বৃহত্তম বাজারগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যে উচ্চগতির কানেকশন স্থাপন হবে, যা এআই উদ্ভাবন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
নতুন মেরিটাইম করিডোর ও শক্তিশালী ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি
এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি নতুন মেরিটাইম করিডোর চালু করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী উন্নতমানের কানেকশন নিশ্চিত করবে। এখানে ব্যবহৃত ২৪ জোড়া ফাইবার অপটিক কেবল অন্যান্য প্রচলিত সাবমেরিন কেবলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
বিনিয়োগ ও চ্যালেঞ্জ
মেটা তাদের এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে শুধু এই খাতে ৬০-৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প, যেখানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কেবল রক্ষার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে মেটা ২০টিরও বেশি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পে অংশ নিয়েছে, তবে এই প্রকল্পটি হবে তাদের অন্যতম বৃহৎ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত উদ্যোগ।
মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য
মেটার মতে, ভবিষ্যতের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। যদিও এটি প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তবে সফল হলে এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করবে।