GPS-নির্ভরতা কাটালো ভারত, এবার সময় বলবে দেশি অ্যাটমিক ক্লক

ভারতের সময় নির্ধারণের পদ্ধতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে ভারত ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ বা আইএসটি নির্ধারণ করে জিপিএস স্যাটেলাইটের মাধ্যমে, যা মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত নির্ভুল সময় জানায়। তবে, শিগগিরই এই ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে চলেছে এবং ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ‘নাভিক’ (Navigation with Indian Constellation) ব্যবহারের মাধ্যমে আইএসটি নির্ধারণ করা হবে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে। ভারতের ফরিদাবাদের ‘ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি’ নাভিক সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সময় নির্ধারণের কাজ করবে। নাভিক থেকে পাওয়া সময়ের তথ্য অপটিক্যাল ফাইবার লিঙ্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অংশে পাঠানো হবে, যেখানে অ্যাটমিক ক্লক স্থাপন করা হয়েছে।

এই কেন্দ্রগুলি হল আমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, ভুবনেশ্বর এবং গুয়াহাটিতে অবস্থিত। অ্যাটমিক ক্লকগুলি পরমাণুর নির্দিষ্ট অনুরণন কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুল সময় প্রদান করে। এই ক্লকগুলির সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ঘড়ি, স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের মতো যন্ত্রগুলো হবে সময়ের সঠিক নির্ধারক। এর ফলে ভারত আর বিদেশি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া জিপিএস তথ্যের উপর নির্ভর করবে না, এবং ‘এক দেশ, এক সময়’ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র।

ভারতের সেনা কর্তারা ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময় দেশের সময় নির্ধারণের জন্য একটি দেশীয় ব্যবস্থা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। সেই সময়ে, বিদেশি উপগ্রহ থেকে পাওয়া সময়ের তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল, যা শত্রুপক্ষের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে সমস্যা তৈরি করেছিল। তখন থেকেই এই স্বনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় এবং সাত বছর আগে এই প্রকল্প শুরু করা হয়।

ভারত সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের সচিব নিধি খারে জানিয়েছেন, “এই প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। ফরিদাবাদ, আমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং ভুবনেশ্বরে অ্যাটমিক ক্লক স্থাপন করা হয়েছে এবং নাভিক লিঙ্কের পরীক্ষাও সফল হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের বিদেশি স্যাটেলাইটের উপর নির্ভরতা কমবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া, পাওয়ার গ্রিড, টেলিযোগাযোগ, ব্যাঙ্কিং, প্রতিরক্ষা, পরিবহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে, এসব ক্ষেত্রে বিদেশি স্যাটেলাইটের উপর নির্ভরশীলতা থাকলেও, নাভিক সিস্টেমের মাধ্যমে তা স্বনির্ভর হবে, যা ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।