প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

ঘটনাটি মধ্য দিল্লির দরিয়াগঞ্জের। সেখানে তিন সন্তানের জননী তার স্বামীর হাত থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিলেন। পরে ফেসবুকে আলাপ হওয়া প্রেমিক এবং এক ভাড়াটে খুনির সাহায্যে তিনি স্বামীকে খুন করেন। ওই নারী এবং তার ১১ বছরের ছোট প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।

অভিযুক্ত জীবা কুরেশির স্বামী মইনুদ্দিন কুরেশিকে গত ১৭ মে রাত দশটার সময় খুন করা হয়। দিল্লির দরিয়াগঞ্জে খালসা স্কুলের ৩ নম্বর গেটের বাইরে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় তাকে। এই ঘটনায় জীবা ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন শোয়েব নামে ২৯ বছরের এক যুবক। তিনি উত্তরপ্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে এই শোয়েবের (২৯) সঙ্গেই সম্পর্কে ছিলেন জীবা। শোয়েবের সাহায্য নিয়েই ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে এক ভাড়াটে খুনিকে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন জীবা। পুলিশ সেই ভাড়াটে খুনিকেও গ্রেফতার করেছে। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির নাম বিনীত গোস্বামী (২৯)।

দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের মা জীবা। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, অশান্তির সংসারে স্বামীর থেকে রেহাই চাইছিলেন বহুদিন ধরেই। অন্য কোনও পুরুষকে ভালবেসে আলাদা সংসার করার কথাও ভেবেছেন বহুবার। বয়সে প্রায় ১১ বছরের ছোট শোয়েবের সঙ্গে জীবার ফেসবুকে আলাপ হয় বছর দুই আগে। সম্পর্ক গাঢ় হলে শোয়েবকে বিয়ে করার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামীকে খুন করার জন্য শোয়েবকে একরকম জোর করেই রাজিও করান।

শোয়েব ওষুধের ব্যবসা করেন। তিনিও বিবাহিত। চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে শোয়েবের। জীবার কথাতেই তিনি যোগাযোগ করেন বিনীতের সঙ্গে। মধ্য দিল্লির ডেপুটি কমিশনার শ্বেতা চৌহান জানিয়েছেন, মইনুদ্দিনকে হত্যা করার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি তথ্য তাদের সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জীবাই। নিজের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলের ‘অ্যাবাউট’-এর জায়গায় সেই তথ্য লিখে রাখতেন জীবা। যা দেখে মইনুদ্দিনের গতিবিধি জানতে পারতেন খুনি। বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পর গত ১৭ মে মইনুদ্দিনকে খুন করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *