হুরমুজ প্রণালী খুলছে শীঘ্রই? তেলের দাম কমতেই কি বড় স্বস্তি মিলবে পকেটে!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে লাগাতার ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। এই আবহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তাঁর এই আশাবাদী মন্তব্যের পরই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ক্রুড অয়েলের দামেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭৯.১৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের উপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উর্ধ্বমুখী থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভবিষ্যতে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের খুচরো পেট্রল ও ডিজেলের দামে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পর থেকেই ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম পরিবর্তিত হতে দেখা গেছে। দেশের প্রথমসারির তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) প্রতিদিন সকাল ৬টায় পেট্রল ও ডিজেলের নতুন দাম প্রকাশ করে থাকে।
পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দাম কীসের উপর নির্ভর করে?
ভারতে জ্বালানির খুচরো মূল্য নির্ধারণের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI)-এর দাম সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তবে এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর দাম নিয়ন্ত্রণ করে:
-
কর ও শুল্ক: কেন্দ্র সরকারের আবগারি শুল্ক (Excise Duty) এবং রাজ্য সরকারগুলির ভ্যাট (VAT)।
-
অন্যান্য খরচ: তেল শোধনাগারের রিফাইনিং মার্জিন, পরিবহণ এবং বিপণনের খরচ।
-
মুদ্রার বিনিময় হার: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার শক্তি বা দুর্বলতা।
-
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির ওঠানামা।