স্প্যাম কলে অতিষ্ঠ? ট্রুকলারের দাবি, ট্রাই-এর নতুন নিয়মে বিপদ আরও বাড়ছে!

টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর নতুন অ্যান্টি-স্প্যাম নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। জনপ্রিয় কলার আইডি প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুকলার’ (Truecaller) সরাসরি ট্রাই-এর এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে যে, এই নিয়মকানুনগুলো ব্যবহারকারীদের অবাঞ্ছিত কল থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিতর্কের মূল কারণ:
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ট্রাই-এর সেই নির্দেশিকা, যেখানে বলা হয়েছে কলার আইডি অ্যাপগুলো ১৪০০ এবং ১৬০০ সিরিজ থেকে আসা বাণিজ্যিক কলগুলোকে সরাসরি ‘স্প্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে না। ২০২৪ সালে টেলিমার্কেটিং ও লেনদেন সংক্রান্ত কলগুলো সহজে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রাই এই সিরিজগুলো চালু করেছিল। কিন্তু ট্রুকলারের সিইও ঋষিত ঝুনঝুনওয়ালার মতে, এই সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দিচ্ছে।
ট্রুকলারের দাবি:
এক্স (টুইটার)-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে ঋষিত ঝুনঝুনওয়ালা জানিয়েছেন, এই নতুন নীতির ফলে গ্রাহকদের আস্থা কমেছে এবং সংশ্লিষ্ট নম্বর সিরিজের অপব্যবহার বেড়েছে। ট্রুকলারের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী:
গত আট মাসে ব্যবহারকারীরা ১৪০০ সিরিজের ৮১ শতাংশ এবং ১৬০০ সিরিজের ৭৯ শতাংশ কলই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই সময়ে মোট ৭৪ মিলিয়ন (৭ কোটি ৪০ লক্ষ) কল ব্যবহারকারীরা ব্লক করেছেন।
যেহেতু ট্রাই-এর নির্দেশ মেনে এই নম্বরগুলোকে ‘স্প্যাম’ হিসেবে লেবেল দেওয়া যাচ্ছে না, তাই ট্রুকলার এখন সেগুলোতে ‘ফ্রিকোয়েন্টলি ব্লকড’ (Frequently Blocked) ব্যাজ যুক্ত করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সচেতন হতে পারেন।
ট্রাই-এর অবস্থান:
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাই এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যেসব কলার আইডি অ্যাপ ট্রাই-এর নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪০০ ও ১৬০০ সিরিজের কলগুলোকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
কেন এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ?
ট্রাই-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল টেলিকম নেটওয়ার্কে জালিয়াতি ও স্প্যাম কল কমানো। ১৪০০ সিরিজটি টেলিমার্কেটিং-এর জন্য এবং ১৬০০ সিরিজটি পরিষেবা ও লেনদেনের তথ্যের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ট্রাই-এর লক্ষ্য ছিল, এই সিরিজের মাধ্যমে গ্রাহকরা যাতে বুঝতে পারেন কলটি কোনো ব্যবসার কাজে আসছে। তবে ট্রুকলারের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে স্প্যামাররা সাধারণ মানুষকে বেশি বিভ্রান্ত করছে।
এই দ্বন্দ্বের ফলে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও রেগুলেটরি নিয়মের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাই এবং ট্রুকলারের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় এবং গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।