বিশ্বমঞ্চে বাংলার জয়জয়কার! জিআই স্বীকৃতি পেল পূর্বস্থলীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! বাংলার আরও এক ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম পেল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নতুনগ্রামের জগৎবিখ্যাত কাঠের পুতুল পেল বহু কাঙ্ক্ষিত ‘জিআই’ (Geographical Indication) বা ভৌগোলিক নির্দেশক তকমা। এই স্বীকৃতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুনগ্রামের শিল্পীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।

জিআই তকমায় নতুন দিগন্ত
নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল, কাঠের পেঁচা এবং গৌর-নিতাইয়ের শিল্পকর্ম বহু বছর ধরেই শিল্পরসিকদের কাছে সমাদৃত। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এই শিল্পের কদর এখন আরও বাড়বে। এই তকমার ফলে নকল পণ্যের হাত থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও শিল্পীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। এতে শিল্পীদের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউনেস্কোর বিশেষ উদ্যোগ
জিআই স্বীকৃতির দিন নতুনগ্রামের শিল্পীদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দেয় ইউনেস্কো (UNESCO)-র প্রতিনিধিদলের সফর। প্রতিনিধিরা শিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখেন এবং তাঁদের নিপুণ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সূত্রের খবর, কাষ্ঠশিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিতে চলেছে ইউনেস্কো। আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দেশ-বিদেশের বড় বাজারে স্থানীয় শিল্পসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বিধায়কের প্রতিশ্রুতি
এই বিশেষ দিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি শিল্পীদের বছরের পর বছর ধরে করা পরিশ্রমের ফসল। তাঁদের এই প্রাপ্য সম্মান আমাদের গর্বিত করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পের প্রসার ও শিল্পীদের আর্থিক উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।”

নতুনগ্রামের শিল্পীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন, জিআই তকমা এবং ইউনেস্কোর হাত ধরে তাঁদের হাতের কাজ কেবল বাংলার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *