মন্দিরে পকেটবিহীন পোশাক! পুরোহিতদের জন্য জারি হলো কঠোর নির্দেশিকা

অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে পূজা-অর্চনা সামগ্রী ও দান চুরির ঘটনার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন বড় মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এই আবহেই হরিদ্বারের প্রখ্যাত মনসা দেবী মন্দির ট্রাস্ট তাদের পুরোহিত ও কর্মচারীদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর ও নজিরবিহীন নিয়ম জারি করেছে। মন্দির চত্বরের পবিত্রতা বজায় রাখতে পুরোহিতদের শপথ গ্রহণ করিয়েছেন ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত ডঃ রবীন্দ্র পুরী মহারাজ।

পুরোহিতদের জন্য জারি হওয়া নতুন নিয়মাবলী:
অখিল ভারতীয় আখাড়া পরিষদের জাতীয় সভাপতি মহন্ত রবীন্দ্র পুরী জানিয়েছেন, এখন থেকে মন্দিরে কোনো অসাধু কাজ বরদাস্ত করা হবে না। নিয়মগুলো হলো:

পকেটহীন পোশাক: এখন থেকে কোনো পুরোহিত মন্দিরে ডিউটি চলাকালীন এমন কোনো পোশাক (যেমন কুর্তা বা পাজামা) পরতে পারবেন না যাতে পকেট রয়েছে।

ব্যাগ নিষিদ্ধ: মন্দিরের ভেতরে পুরোহিতদের কোনো ধরণের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সিসিটিভি নজরদারি: মন্দিরের প্রতিটি কার্যকলাপ ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হবে। এই নজরদারির সরাসরি অ্যাক্সেস মহন্ত রবীন্দ্র পুরীর কার্যালয় ও তাঁর মোবাইল ফোনেও থাকবে।

প্রসাদ ও সামগ্রী বিক্রি নিষিদ্ধ: মন্দিরে নিবেদিত নারকেল, পূজার সামগ্রী বা প্রসাদ বাইরে হকারদের কাছে বিক্রি করা বা নিজের কাছে রেখে দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কঠোর হুঁশিয়ারি:
যদি কোনো পুরোহিত বা কর্মচারী নিয়ম অমান্য করে বা মন্দিরের দান বা সামগ্রী আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েন, তবে তাঁদের তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছেন মহন্ত রবীন্দ্র পুরী।

নেতৃত্বের বার্তা:
মন্দিরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মহন্ত রবীন্দ্র পুরী আখাড়া পরিষদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আখাড়া পরিষদে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং ২০২৭ সালের কুম্ভ মেলা তাঁর নেতৃত্বেই সম্পন্ন হবে।

মন্দিরের পবিত্রতা ও ভক্তদের বিশ্বাসের সাথে আপোষহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মনসা দেবী মন্দিরের মর্যাদা রক্ষায় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা আর সহ্য করা হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *