‘আমরাই আসল তৃণমূল!’ নতুন দল নয়, সংগঠন দখলেই নজর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজ্যের শাসকদলের অন্দরের বিদ্রোহ এখন আর শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দলীয় সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে স্পষ্ট হলো যে, তাঁদের লক্ষ্য কেবল সংসদীয় রাজনীতি নয়, বরং তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত নিজের কবজায় আনা।
প্ল্যান কী বিদ্রোহীদের?
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের এই মুহূর্তে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের পরিকল্পনা নেই। আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম লক্ষ্য ছিল বিধায়ক ও সাংসদদের ঐক্যবদ্ধ করা। এবার আমাদের নজর পুরসভা, পুরনিগম এবং জেলা পরিষদের দিকে। তৃণমূল স্তরের বহু জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের জেলা সভাপতিরা ইতিমধ্যেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”
দলের অন্দরে ‘আসল-নকল’ বিতর্ক:
নিজেরাই যে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, তা দাবি করে ঋতব্রত বলেন, “দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। দল বা প্রতীকের দাবি নিয়ে প্রয়োজন হলে আমরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হব।” দলের বর্তমান নেতৃত্বকে বিঁধে ঋতব্রতর অভিযোগ, মমতার তৈরি করা তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে এক শ্রেণির ‘কর্পোরেট আমলাতন্ত্র’ দখল করে নিয়েছে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের লড়াই ব্যক্তিগতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের বর্তমান পরিচালন পদ্ধতি ও কাঠামোর বিরুদ্ধে।
সংসদীয় রণকৌশল:
ঋতব্রত জানান, তাঁরা বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধিতার নীতি অবলম্বন করবেন। বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে হারলেও তাঁরা ওয়াকআউট করবেন না, বরং দলের অভ্যন্তরে থেকে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
ঋতব্রতর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিদ্রোহী শিবির এখন তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। পুরসভা ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের দলে টানার এই প্রক্রিয়া সফল হলে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।