তৃণমূল তহবিলে কি কাটমানি? বদলি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগে সরগরম খাদ্য দপ্তর

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরে আধিকারিকদের পোস্টিং ও বদলিকে কেন্দ্র করে এক বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। সরকারি কর্মীদের বদলির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দপ্তরেরই একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে।
কী অভিযোগ?
রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার খাদ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং ডিরেক্টরের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী সুজিত চক্রবর্তীর দাবি, দপ্তরের একটি কর্মচারী সংগঠনের ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এই দুর্নীতি চলত।
অভিযোগের আঙুল যাদের দিকে:
অভিযোগপত্রে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যারা এই নেটওয়ার্কের মূল মাথা বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মিন্টু বাগচী, দেবাশিস রায় (ইউডিসি) এবং নিলয় চক্রবর্তী। অভিযোগ, প্রতাপ নায়েকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এই চক্রটি চলত। অভিযোগকারীদের দাবি, সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ পরবর্তীতে তৎকালীন শাসকদলের তহবিলে ‘অনুদান’ হিসেবে পাঠানো হতো।
কী বললেন খাদ্যমন্ত্রী?
পুরো ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়লেও, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি বলেন, “অভিযোগপত্রটি এখনও আমার হাতে আসেনি। তবে চিঠি পাওয়ার পরই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু হবে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির যে সংস্কৃতি ছিল, এই সরকার তা বরদাস্ত করবে না। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের প্রশ্নে আমাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’।”
রাজনৈতিক তরজা:
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযোগকারীরা। অন্যদিকে, বিজেপির সাংসদ জগন্নাথ সরকার দাবি করেছেন, এতদিন ধরে যে দুর্নীতি চাপা দেওয়া হয়েছিল, এবার তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
খাদ্য দপ্তরের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী দপ্তরে বদলি নিয়ে এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।