‘ভাইকে হত্যার ছক কষেছেন খান স্যার!’ জামিন পেয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ রোশন আনন্দের

বিহারের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পাটনার খান গ্লোবাল কোচিং ইনস্টিটিউটে ভাঙচুরের ঘটনা এবং এর রেশ ধরে ঘটে যাওয়া রহস্যমৃত্যু। ভাঙচুরের মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর, শিক্ষক রোশন আনন্দ কোচিং সেন্টারের পরিচালক ফয়সাল খান (যিনি ‘খান স্যার’ নামে পরিচিত) এবং কিষাণ কোল্ড স্টোরেজের মালিকের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।

কী অভিযোগ রোশন আনন্দের?
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রোশন আনন্দ দাবি করেন, তাঁর ভাই প্রিন্স যাদবের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, ফয়সাল খান এবং কিষাণ কোল্ড স্টোরেজের মালিকের যোগসাজশেই তাঁর ভাইকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই সত্য সামনে আসবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসী।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ
রোশন আনন্দের আইনজীবী নিরঞ্জন কুমার সিং এই পুরো এফআইআর-কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আইপিসি ১০৯ ধারা (খুনের ষড়যন্ত্র) প্রয়োগ করা হয়েছে। ফয়সাল খান প্রভাবশালী ব্যক্তি, তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে রোশন আনন্দের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন।”

এই ঘটনাকে ঘিরে সরগরম বিহারের রাজনীতিও। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এবং তেজ প্রতাপ যাদব ঘটনার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তেজ প্রতাপ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, প্রিন্স যাদবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কী ঘটেছে নেপালে?
২ জুন খান গ্লোবাল কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিন্স যাদব নেপালে পালিয়ে যান। শনিবার রাতে নেপালের বিরাটনগরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই রহস্যমৃত্যুই এখন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

খান স্যারের প্রতিক্রিয়া ও বিজেপির অবস্থান
ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ফয়সাল খান একটি ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি শোকার্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন এবং এই ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের জন্য পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করবেন। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা একটি নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে। পুলিশি তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”

পুলিশি তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পাটনা। রোশন আনন্দের এই গুরুতর অভিযোগের পর বিহারে নতুন করে কোনো অশান্তি দানা বাঁধে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।