‘ই-বিধানসভা’র পথে বাংলা! বিধায়কদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে এবার বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ স্পিকারের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন ও সাহসী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন বিধানসভার স্পিকার। রাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে খুব শীঘ্রই বিধানসভাকে সম্পূর্ণভাবে ‘ই-বিধানসভা’ বা ডিজিটাল বিধানসভায় রূপান্তর করা হবে।
ই-বিধানসভা: কাগজবিহীন কর্মযজ্ঞ স্পিকার জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এবার থেকে প্রশাসনিক কাজ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালিত হবে। এই পেপার-লেস বা কাগজবিহীন ব্যবস্থা চালু হলে কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সরকারি খরচ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে। শুধু প্রশাসনিক উন্নয়নই নয়, সাধারণ মানুষের জন্য বিধানসভার কার্যক্রম আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জনগণ অনলাইনেই বিধানসভার অধিবেশন দেখতে পাবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অ্যাক্সেস করার সুযোগ পাবেন।
২০০-র বেশি বিধায়কের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ বিধানসভার কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নবনির্বাচিত বিধায়কদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সদ্য নির্বাচিত ২০০-র বেশি বিধায়কের জন্য দুই দিনব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে মূলত:
-
সংসদীয় নিয়ম-কানুন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।
-
আইন প্রণয়ন পদ্ধতি ও প্রশ্ন উত্থাপনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
-
জনসমস্যা সমাধানের কাঠামো ও বিধায়কদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কেন এই উদ্যোগ? প্রথমবার বিধানসভায় আসা সদস্যদের জন্য সংসদীয় কার্যপ্রণালী কিছুটা জটিল হতে পারে। স্পিকারের কথায়, “প্রথমবার বিধানসভায় আসা বিধায়কদের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা না থাকাই স্বাভাবিক। তাই এই প্রশিক্ষণ তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, যাতে তাঁরা আরও কার্যকরভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।”
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণই যে একমাত্র পথ, সেই বার্তাই দিলেন বিধানসভার স্পিকার। রাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে এই আধুনিকীকরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।