তৃণমূল-কংগ্রেস কি এক হচ্ছে? মার্জার জল্পনায় জল ঢেলে কড়া বার্তা দিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব

কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মিশে যাওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে রাজনৈতিক গুঞ্জন রাজ্য ও জাতীয় স্তরে দানা বেঁধেছিল, অবশেষে তার অবসান ঘটল। বুধবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, তৃণমূলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই কংগ্রেসের নেই।

কেসি ভেনুগোপালের স্পষ্ট বার্তা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল একটি সাংবাদিক সম্মেলনে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ছিল শুধুমাত্র জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। এর সাথে দুই দলের মিশে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এই ধরনের খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”

জল্পনার প্রেক্ষাপট: দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁদের পৃথক বৈঠককে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল। অতীতে জোটের বিভিন্ন বৈঠকে মমতার অনুপস্থিতি এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে বিধানসভায় দলের আসন সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় অনেকেই মনে করছিলেন, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেসের হাত ধরতে চলেছে তৃণমূল।

দলের অন্দরে কী খবর? তৃণমূলের ভেতরেও এই জল্পনা নিয়ে নানা মত রয়েছে। দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা জোট না কি একীভূত হওয়ার রূপ নেবে, তা ছিল ধোঁয়াশার কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূলের বিধানসভা দল বা সাংসদদের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনায় নেই।

এখন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের এই স্পষ্ট বার্তার পর তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্কের সমীকরণ স্পষ্ট—দুই দল এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ হিসেবেই একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকবে, কোনোভাবেই একীভূত হবে না।