তৃণমূলের অন্দরে বড় ফাটল! ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে ‘আলাদা জোন’-এর দাবি শতাব্দীর

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন আরও দাউদাউ করে জ্বলছে। এবার এনডিএ (NDA) জোটকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে কলকাতার ফিরলেন বীরভূমের বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। শুধু সমর্থন জানানোই নয়, আসন্ন দিনে দল ও রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।

‘আলাদা জোন’-এর দাবি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী রায় পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের মোট ২০ জন সাংসদ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত। তিনি জানান, “আমরা একটি আলাদা ব্লক বা ‘জোন’ চেয়েছি। এই ২০ জন সাংসদ মূল তৃণমূল দলের বাইরে নিজেদের একটি পৃথক পরিচয় নিয়ে কাজ করতে চান।” দলের অন্দরে এই বিভাজন যে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য তারই প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সোমবারই শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সেই বৈঠকের ফলস্বরূপ বড়সড় আশ্বাসের কথা শোনালেন শতাব্দী। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের উন্নয়নের জন্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। শতাব্দী বলেন, “সাংসদ তহবিলের বাইরেও মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে আমাদের এলাকায় উন্নয়নের কাজে সাহায্য করা হবে। এতে কাজ আরও দ্রুত ও ভালো হবে।”

১০০ দিনের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শতাব্দি রায়ের মতে, রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ ফের চালু করার যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী নিয়েছেন, তা উন্নয়নের চাকাকে ফের সচল করবে। নিজের এলাকা এবং বিদ্রোহী সাংসদদের কেন্দ্রের উন্নয়নে তিনি এখন পুরোপুরি শুভেন্দু অধিকারীর ওপরই ভরসা রাখছেন।

তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে এই ২০ সাংসদের বেরিয়ে আসা এবং এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া যে আসন্ন দিনগুলিতে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের সামলাতে দল কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।