৩০ বছরের পুরনো স্বপ্ন এবার সত্যি? আরব সাগরের বুক চিরে ওমান থেকে গুজরাটে আসছে গ্যাস!

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও লাগাতার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। তেল এবং রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান সংকট ও বাণিজ্যের ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে এবার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজছে দিল্লি। এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ৩০ বছর আগে তৎকালীন পিভি নরসিংহ রাও সরকারের দেখা এক স্বপ্নের বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলো বর্তমান ভারত সরকার। আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে সরাসরি ওমান থেকে গুজরাটে প্রাকৃতিক গ্যাস আনার পরিকল্পনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
কেন এই মহাপরিকল্পনা? বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) প্রচণ্ড চাপের মুখে। ভারতকে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির জন্য অস্থির অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) নিশ্চিত করতে সমুদ্রের নীচে পাইপলাইন পাতার এই প্রজেক্টটিকে এখন ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে দেখছে সাউথ ব্লক।
কী এই প্রকল্প? আশির দশকের শেষ বা নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এই পরিকল্পনাটি প্রথমবার ভাবা হয়েছিল। সমুদ্রের গভীর দিয়ে হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করে ওমান থেকে সরাসরি ভারতের উপকূলে গ্যাস নিয়ে আসাটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তৎকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এটি বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভূ-রাজনীতির সমীকরণে এই প্রকল্পটি এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক
-
সরাসরি সংযোগ: ওমান থেকে গুজরাটে সরাসরি গ্যাস এলে শিপিং-এর ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
-
খরচ সাশ্রয়: সমুদ্রপথে এলএনজি (LNG) আমদানির চেয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা।
-
কৌশলী সুবিধা: যুদ্ধের অস্থিরতা বা লোহিত সাগরে সংকটের মতো পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ওপর আর পড়বে না।
বর্তমানে দিল্লি এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। ৩০ বছর আগে যা ছিল কেবলই একটি স্বপ্ন, ভূ-রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কি এবার ভারতের শক্তির নতুন ভিত্তিপ্রস্তর হতে চলেছে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।