ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম! আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন মন্ত্রী?

একদিকে পেট্রোল-ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দাম, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। রবিবার এক ধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা দাম বৃদ্ধির পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল। তিনি কার্যত ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে রান্নার গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণেই ভারত এই কঠিন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে কেন্দ্র:

  • পরিবহণ ও লজিস্টিকস সমস্যা: আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতের জেরে পণ্য পরিবহণ ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের জটিলতায় সময় লাগছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন।

  • সীমিত উৎস ও অতিরিক্ত খরচ: এলপিজির উৎস এখন খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের ‘বেস প্রাইস’ বা মূল দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • বিমা ও যাতায়াত ব্যয়: পণ্য পৌঁছাতে সময় বেশি লাগায় পরিবহণ খরচ এবং বিমা মাশুল আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ার ঘটনায় আমরাও সমানভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত। কিন্তু সমালোচনা করার আগে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো উপায় ছিল না।”

পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে একটি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে কেন্দ্রের খরচ পড়ছে প্রায় ১৬০০ টাকারও বেশি। সেই জায়গায় সাধারণ মানুষ এখনো তুলনামূলক অনেক কম দামে গ্যাস পাচ্ছেন বলে সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কী? বর্তমানে দিল্লিতে ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ টাকায়। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও দফায় দফায় বেড়েছে, যা রেস্তোরাঁ ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের এই বিবৃতির পর এটা স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাত প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে এই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হতে পারে।