বিয়ের আগে সহবাসে বাধা নেই! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কি বললেন তাসলিমা নাসরিন?

বিয়ের আগে দুই প্রাপ্তবয়স্কের যৌন সম্পর্ককে ‘নৈতিক অধঃপতন’ বলে দেগে দেওয়া যাবে না—সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানালেন নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আদালতের এই অবস্থানকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এক বড় জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।
কী বলেছেন তসলিমা? নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তসলিমা নাসরিন লেখেন, “অনেক দেরিতে হলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে স্বীকার করেছে যে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপরাধ বা খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।” তাঁর মতে, একটি সম্পর্কের আসল ভিত্তি হওয়া উচিত ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং সম্মতি। স্রেফ একটি বিবাহের সনদ বা সরকারি কাগজ সম্পর্কের স্থায়িত্ব বা সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না।
বিয়ে কি তবে অপ্রয়োজনীয়? বর্তমান সমাজে সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণা নিয়ে তসলিমা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, আধুনিক যুগে বিয়ে ক্রমশ একটি ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত হচ্ছে। তাঁর কথায়, “অতীতে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা সীমিত থাকায় বিবাহের একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে দুই স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য বিয়ের সনদের প্রয়োজন নেই।”
সাহিত্যিকের মতে, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একসঙ্গে বসবাস করা বা ‘লিভ-ইন’ সম্পর্ক অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত। এতে পরস্পরের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক সামঞ্জস্য বিচার করা সহজ হয়। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, যারা বিয়ে করতে চান বা যারা লিভ-ইন করতে চান—উভয়েরই নিজ নিজ পছন্দের স্বাধীনতা থাকা উচিত। রাষ্ট্রের ভূমিকা হওয়া উচিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করে বরং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এবং তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এক পক্ষের মতে, এটি আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ। অন্যদিকে, রক্ষণশীল মহলের দাবি, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ এবং পারিবারিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, বিচারব্যবস্থায় এমন অবস্থান ভবিষ্যতে লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে। অতীতে নারীর অধিকার বা সমানাধিকারের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে আদালত যে পথ দেখিয়েছে, এই রায়ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।