ওড়িশার অনুরোধে সম্মান, দিঘার মন্দির থেকে মুছে গেল ‘ধাম’ তকমা! বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ও ওড়িশার মানুষের ধর্মীয় আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এখন থেকে এই স্থানটি শুধুমাত্র ‘দিঘা জগন্নাথ মন্দির’ নামেই পরিচিত হবে।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ ও সম্বিৎ পাত্রের নবান্ন সফর হিন্দু ধর্মে ‘চারধাম’ বলতে বদ্রীনাথ, দ্বারকা, রামেশ্বরম এবং পুরীর জগন্নাথ ক্ষেত্রকে বোঝায়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি সম্প্রতি এক বিশেষ চিঠিতে অভিযোগ করেছিলেন, দিঘার মন্দিরে ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহার করায় কোটি কোটি জগন্নাথ ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই আবেদন নিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নবান্নে আসেন পুরীর সাংসদ সম্বিৎ পাত্র। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে ওড়িশা সরকারের আনুষ্ঠানিক চিঠিটি তুলে দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাবিনেটের সাথে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি জানান, শাস্ত্রীয় রীতি ও ঐতিহ্যের নিরিখে দিঘার মন্দিরের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওড়িশার মানুষের আবেগকে আমরা সম্মান জানাই। সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে আমরা অবিলম্বে দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ তকমা প্রত্যাহার করছি।”

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক ছিল। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, চারধাম ছাড়া অন্য কোথাও ধাম শব্দ ব্যবহার করা শাস্ত্রবিরুদ্ধ। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দাবিতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন বর্তমান সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, আগের সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে ঐতিহ্যের তোয়াক্কা না করে এই বিতর্ক তৈরি করেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঐতিহ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাই তাদের লক্ষ্য।

ওড়িশা সরকারের এই অনুরোধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করে বাংলার নতুন সরকারের এই ‘সমন্বয় ও সম্মানের’ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।