‘এই দেশে মা হতে চাই না,’ মাতৃত্ব নিয়ে পুরনো বিতর্ক, মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী সোহিনী

টলিপাড়ার অলিতে-গলিতে এখন একটাই আলোচনা— মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গায়ক শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়ার পর থেকেই এই জুটিকে ঘিরে অনুরাগীদের আগ্রহের অন্ত নেই। বিয়ের দু’বছরের মাথায় তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে নতুন সদস্য আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে শোরগোল। যদিও এই গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে এখনও মুখে কুলুপ এঁটেছেন তারকা দম্পতি।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও সোহিনীর পুরোনো মন্তব্য সোহিনীর মা হওয়ার জল্পনা যতটা আনন্দের, ঠিক ততটাই উসকে দিচ্ছে অতীতে করা তাঁর এক বিস্ফোরক মন্তব্য। ২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী যখন রাজপথে নেমে সরব হয়েছিলেন, সেই সময় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমার সদ্য বিয়ে হয়েছে। স্বামীকে বলেছি, এমন দেশে আমি সন্তান আনতে চাই না। চারদিকে দুর্নীতির যে পরিস্থিতি, তাতে সন্তানকে বড় করে তোলার মতো নিরাপদ পরিবেশ আছে কি?”
এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে পরে এক সাক্ষাৎকারে সোহিনী স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করেননি, বরং দেশের সার্বিক অস্থিরতা নিয়েই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, “মাতৃত্ব একটি সুন্দর বোধ। আমিও মা হতে চাই। আমার এই মন্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এখন পরিস্থিতি কী? বর্তমানে সোহিনীর ফিল্মি ইভেন্টে উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। গত কয়েক মাসে তাঁকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। টলিপাড়ার অন্দরের খবর, সোহিনী ও শোভন এখন অত্যন্ত সাবধানী। তাই সন্তানের আগমনী বার্তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে চাইছেন না তাঁরা।
অনেকেই মনে করছেন, সোহিনীর সেই সময়ের ‘সন্তান না আনার’ মন্তব্যটি ছিল রাগের মাথায় পরিস্থিতির প্রতি এক চরম অভিমান। সময়ের সাথে সাথে এবং ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর সাথে সাথে সেই মানসিকতায় বদল আসা খুবই স্বাভাবিক।
সোহিনী ও শোভনের তরফ থেকে এখনও কোনো সুখবর নিশ্চিত না করা হলেও, তাঁদের ভক্তরা আপাতত অধীর অপেক্ষায় দিন গুনছেন। টলিপাড়ার এই প্রিয় জুটির পরিবারে কি সত্যিই নতুন অতিথির আগমন ঘটতে চলেছে? উত্তর মিলবে সময়ের অপেক্ষাতেই।
আপনার কি মনে হয় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত মন্তব্যগুলো পরবর্তী সময়ে তাঁদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।