তৃণমূলের ভাঙনকালে শত্রুঘ্ন সিনহার রহস্যময় নীরবতা! সাংসদকে নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, যখন কাকলি ঘোষদস্তিদার বা মহুয়া মৈত্রের মতো নেতারা প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন, তখন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার নীরবতা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বলিউডের ‘শটগান’ হিসেবে পরিচিত এই পোড় খাওয়া রাজনীতিকের বর্তমান অবস্থানে কী রণকৌশল লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে সরগরম টেলিপাড়া থেকে নবান্ন।
‘কৌশলগত অপেক্ষা’ নাকি অন্য কিছু? অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শত্রুঘ্ন সিনহার এই নীরবতাকে কেবল উদাসীনতা বলা চলে না। এটি সম্ভবত একটি ‘কৌশলগত অপেক্ষা’। তৃণমূলের অন্দরে বর্তমানে যে রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তাতে তাড়াহুড়ো করে কোনো পক্ষ না নিয়ে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা বলে, তৃণমূলের এই অস্থিরতার চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে, তা বোঝার জন্যই তিনি আপাতত মুখ খুলছেন না।
রহস্যের নেপথ্যে সম্পর্কের সমীকরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। দলের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে তিনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অটল থাকবেন, নাকি সময়ের প্রয়োজনে তিনিও স্রোতের দিকে গা ভাসাবেন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। মজার ব্যাপার হলো, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেও তিনি কোনো প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরি করেননি। এই মাঝামাঝি অবস্থানই জল্পনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আসানসোলের সাংসদের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড আসানসোলের সাংসদ হওয়ার পর থেকেই শত্রুঘ্ন সিনহা বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য বা পোস্টের মাধ্যমে শিরোনামে থেকেছেন। মোদীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো থেকে শুরু করে ইউসিসি (UCC) নিয়ে মন্তব্য—তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই কোনো না কোনো বার্তা লুকিয়ে থাকে। অতীতে তাঁকে ঘিরে ‘লাপাত্তা’ পোস্টার বা নানা বিতর্ক তৈরি হলেও, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের শর্তে রাজনীতি করেছেন।
শেষ মুহূর্তে বড় চমক? রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, শত্রুঘ্ন সিনহা কি শেষ মুহূর্তে কোনো বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি বদলে দেবেন? নাকি নীরব থেকেই কোনো বড় ঝড় ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি? আপাতত তাঁর এই ‘মৌনব্রত’ যে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের ভাঙনের আবহে শত্রুঘ্ন সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপই হতে পারে এই রাজনীতির নতুন মোড়।