তেজস যুদ্ধবিমান সরবরাহে বড় বিলম্ব! এইচএএল (HAL)-এর ওপর জরিমানার প্রস্তুতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশীয় যুদ্ধবিমান ‘তেজস এমকে১এ’ (Tejas Mk1A) সরবরাহে বিলম্ব। নির্ধারিত সময়ে যুদ্ধবিমান হাতে না পাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর ওপর বেজায় চটেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সূত্র মারফত খবর, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে এইচএএল-এর ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিলম্বের নেপথ্যে কী? ২০২১ সালে ৪৫,৬৯৬ কোটি টাকার চুক্তিতে ৮৩টি তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমান কেনার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিমান সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, এখনো বিমানবাহিনীর হাতে একটিও বিমান এসে পৌঁছায়নি। এইচএএল-এর দাবি, এর মূল কারণ আমেরিকান কোম্পানি ‘জেনারেল ইলেকট্রিক’ (GE)-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ‘এফ৪০৪-আইএন২০’ (F404-IN20) ইঞ্জিন সরবরাহ না পাওয়া। চুক্তির অধীনে ৯৯টি ইঞ্জিন পাওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র ৬টি ইঞ্জিন ভারতে এসে পৌঁছেছে। ফলে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি এয়ারফ্রেম প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিনহীন অবস্থায় পড়ে আছে যুদ্ধবিমানগুলো।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কড়া নির্দেশ সোমবারই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কার্তব্য ভবনে এইচএএল-এর প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সেখানে তেজস প্রকল্পের দেরি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এইচএএল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত উৎপাদন সময়সূচী যেন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইঞ্জিন সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১৮ থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জরিমানা কি অনিবার্য? যদিও এইচএএল দাবি করছে ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়, তবুও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক চুক্তিভঙ্গের দায়ভার সংস্থার ওপরই চাপাতে চাইছে। চুক্তিতে থাকা ‘লিকুইডেটেড ড্যামেজ’ ক্লজ বা ক্ষতিপূরণ ধারার প্রয়োগ করে জরিমানা আদায় করা হতে পারে বলে সরকারি মহলের খবর। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা বাড়াতে তেজস এমকে১এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই বিলম্ব যে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।

এইচএএল-এর শেয়ার দর নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের ‘সেলফ-রিলায়েন্স’ বা আত্মনির্ভরশীলতার বড় বাজি হলো এই তেজস প্রকল্প। এখন দেখার, বছরের শেষ নাগাদ এইচএএল এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে কি না।