তৃণমূল ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর! দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তুললেন দুর্নীতির অভিযোগ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। পদত্যাগের পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি সরাসরি দলের অন্দরের অব্যবস্থা ও ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
কেন এই পদত্যাগ? সুখেন্দুশেখরের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে শাসিত তৃণমূলের প্রতি বাংলার মানুষ আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে সার্বিক দুর্নীতি, নারী নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বীতশ্রদ্ধ। তিনি বলেন, “বাংলার জনগণ তৃণমূলের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো জরুরি ক্ষেত্রে সরকারের চরম ব্যর্থতা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।” বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে তিনি জনগণের ঐতিহাসিক রায় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দলের অন্দরে কোণঠাসা ছিলেন? পদত্যাগকারী সাংসদ দাবি করেছেন, আরজি কর আবহে যখন দলের অনেকেই চুপ ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট ভাষায় দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। যার ফলস্বরূপ দলের অন্দরে তাকে দীর্ঘদিন কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমি সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম। সেই সময় আসতেই আমি পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম।”
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা: সুখেন্দুশেখরের এই পদত্যাগ তৃণমূলের জন্য শুধু বড় ধাক্কাই নয়, এটি দিল্লির রাজনীতিতে দলের দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিতবাহী। রাজ্যে ইতিমধ্যে ৬০ জন বিধায়ক দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, সুখেন্দুশেখরের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলের অন্যান্য সাংসদরাও এবার বিদ্রোহী হতে পারেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন নতুন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর সবার।