মন্ত্রী হয়েও স্কুটির হ্যান্ডেলে শঙ্কর ঘোষ! শিলিগুড়িতে পা রেখেই সাধারণের ভিড়ে নতুন মন্ত্রী

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার নিজের শহর শিলিগুড়িতে পা রাখলেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। রবিবার সকালে এনজেপি স্টেশনে পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে দেখা গেল কর্মী-সমর্থকদের জনজোয়ার। তবে মন্ত্রীর সিংহাসন বা নিরাপত্তার কড়াকড়ি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে গিয়েই নিজের শহরের মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে চাইলেন শঙ্কর।
নিরাপত্তার প্রথা ভেঙে স্কুটিতে মন্ত্রী:
রবিবার সকালের এনজেপি স্টেশন যেন ছিল শঙ্কর ঘোষের অপেক্ষায়। শত শত কর্মী-সমর্থকের ফুলেল সংবর্ধনার মাঝেও তিনি বজায় রাখলেন তাঁর চিরচেনা সাদামাটা জীবনযাপন। প্রথাগত নিরাপত্তার ঘেরাটোপকে দূরে সরিয়ে স্টেশন থেকেই সোজা স্কুটির হ্যান্ডেল ধরলেন নতুন মন্ত্রী। এরপর এনজেপি থেকে শুরু করে কোর্ট মোড় ও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত তিনি ঘুরে বেড়ালেন নিজের স্কুটিতেই। মন্ত্রীর এই সফর সঙ্গীদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীদেরও বেশ বেগ পেতে হয়, কারণ তাঁকে অনুসরণ করতে হয় মোটরসাইকেলে।
শঙ্কর ঘোষের কথায়, “আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, শিলিগুড়ির মানুষ ও উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব। মানুষের হয়ে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।” শহরের আনন্দময়ী কালীবাড়ি ও মায়ের ইচ্ছা কালিমন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি শুরু করলেন তাঁর আজকের রাজনৈতিক কর্মসূচি।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ:
শিলিগুড়ির উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনাটি নিয়েও এদিন রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, “আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু কলেজের ইউনিয়ন রুমে যে কার্যকলাপের কথা প্রকাশ্যে এসেছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি একটি বেডরুমের থেকে কম কিছু নয়।”
তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার জন্য দলটির লজ্জা পাওয়া উচিত এবং প্রত্যেকের পদত্যাগ করা প্রয়োজন। কারও বাবা-মা যদি জানতে পারেন তাদের সন্তান তৃণমূল করে, তবে লজ্জায় তাঁদের মাথা হেঁট হয়ে যায়।” যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শপথ নেওয়ার পরই শঙ্কর ঘোষের এই সাদামাটা জীবনযাপন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর এই ঝাঁঝালো অবস্থান এখন শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চর্চার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।