বাংলায় কি দেরিতে বর্ষা? উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য কী পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস?

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গে এখনও প্রবেশ করেনি বর্ষা। সাধারণত জুনের শুরুতেই জলপাইগুড়ির পথ ধরে বঙ্গে মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে, তবে এ বছর কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। যদিও উত্তরবঙ্গে বর্ষা না এলেও প্রাক-বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন সিকিমসহ উত্তরের একাধিক জেলা। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখনই বর্ষার সম্ভাবনা না থাকলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তরবঙ্গে বর্ষা ও বৃষ্টির পূর্বাভাস
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে বর্ষা আসার আগেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
সতর্কতা: জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আগামী দিনের পরিস্থিতি: সোমবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া কেমন?
দক্ষিণবঙ্গে এখনই বর্ষার কোনো সুখবর নেই। আপাতত সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তবে বৃষ্টি হলেও অস্বস্তিকর গরম থেকে এখনই মুক্তি মিলছে না। আগামী সাত দিনে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। আপাতত বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও দুই বর্ধমানে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপট
দেশের অন্যান্য প্রান্তের পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই মণিপুর-মিজোরামে বর্ষা প্রবেশ করেছে। কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু পেরিয়ে গোয়া, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের একাংশেও পৌঁছেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ছত্তিশগড় ও ওড়িশার সাথে সাথেই বাংলায় বর্ষা ঢোকার অপেক্ষা এখন সময়ের মাত্র।